‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে’

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে ‘খুব কঠিন কিছু’ করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার ভাষায়, ‘হয় চুক্তি হবে, না হলে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে।’

এই পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি ওমানের সুলতানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ হয়।

গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অনেক বেড়েছে। ভারত মহাসাগরে পাঠানো হয়েছে বিশাল যুদ্ধবহর। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে আরেকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথাও ভাবছে ওয়াশিংটন।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করেছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সামনে তিনটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। সেগুলো হলো—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা (পারমাণবিক জ্বালানির জন্য ব্যবহৃত প্রক্রিয়া), আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত করা।

ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি নয়। এর আগেও ট্রাম্প একতরফাভাবে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। কয়েকটি মানবাধিকার ও শান্তিবাদী সংগঠন কংগ্রেসকে অননুমোদিত যুদ্ধ ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, নতুন যুদ্ধ হলে তা আরও অস্থিরতা ও রক্তপাত ডেকে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights