ইসরায়েলে নির্বাচন : ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন (ইয়াসার পার্টি) জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। এদিকে, আরব-নেতৃত্বাধীন দুটি দল যৌথভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে দেশটির ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি কোনো জোটই। এই ফলাফলের ফলে দুই শীর্ষ জোট মূল পরাশক্তিই সরকার গঠনে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এতে করে আরব দলগুলো এখন ইসরায়েলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ‘কিংমেকার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
বুধবার রাতে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮৯.৮ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপ এবং ভোটগ্রহণ শেষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব ফলাফলের উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। নির্বাচনের আগে অধিকাংশ জরিপে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও ভোট গণনা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপগুলোতেও আইজেনকটের জোট দুই থেকে তিন আসনে এগিয়ে ছিল। কিন্তু রাতভর ভোট গণনার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে লিকুদ, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, ওতজমা ইয়েহুদিত ও রিলিজিয়াস জায়নিজম। এই জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। এটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে আটটি কম। অন্যদিকে, আইজেনকটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের বিয়াচাদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস ও আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু নিয়ে গঠিত জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের আরও ১৩টি আসন প্রয়োজন। বিদায়ী পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ছিল ৬৮। নতুন নির্বাচনের ফলাফলে সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে তারা।
এদিকে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন বৃদ্ধি। ইউসুফ জাবারিনের জয়েন্ট লিস্ট এবং মানসুর আব্বাসের রা’আম যৌথভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। এর আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরব দলগুলোর সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ছিল ১৫। ফলে এবারের ফলাফল তাদের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রত্যাশা নিয়ে অনেক আরব ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরব দল দুটি যৌথভাবে ১৯টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুবিরোধী পক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আইজেনকটের জোটের অধিকাংশ জায়নবাদী দল রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। ফলে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বেশি হলেও সেই শক্তি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
দলভিত্তিক আসনের হিসাবেও লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। বুধবার দুপুর ২টা ৩২ মিনিটের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পেতে পারে ২৬টি আসন এবং আইজেনকটের ইয়াশার ২১টি। নাফতালি বেনেটের বিয়াচাদ ও জয়েন্ট লিস্ট উভয় দলই ১২টি করে আসন পেতে পারে। বামপন্থী দ্য ডেমোক্র্যাটসের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা আট। ওতজমা ইয়েহুদিত, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, রা’আম এবং ইসরায়েল বেইতেনু প্রত্যেকেই সাতটি করে আসন পেতে পারে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পেতে পারে ছয়টি আসন।
অন্যদিকে, ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি ২.৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনী সীমা ৩.২৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। অফার উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল পেয়েছে ১.৬১ শতাংশ ভোট। অতি-অর্থডক্স সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যে গঠিত চারেদি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র ০.১৯ শতাংশ ভোট। ফলে এসব দল পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফলে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তখনও আনুমানিক ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ‘ডাবল-এনভেলপ’ ভোট গণনা বাকি ছিল। এসব ভোটের মধ্যে প্রধানত সেনাসদস্য, কারাবন্দি, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং নিজ নিজ নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে না পারা ব্যক্তিদের ভোট রয়েছে। একজন ভোটার একাধিকবার ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করার প্রয়োজন হওয়ায় এসব ব্যালট আলাদাভাবে গণনা করা হয়। বাকি ভোট গণনা বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হয়ে সন্ধ্যার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পূর্ণাঙ্গ ভোট গণনার ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল ৪ নভেম্বর প্রকাশের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিটি।
তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
