ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াবে জ্বালানিসংকট

জিন্নাতুন নূর

এবার ঈদযাত্রায় জ্বালানিসংকট যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বাস মালিকরা। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে এবং সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানালেও প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার কিছু পরিবহনকে পড়তে হচ্ছে জ্বালানিসংকটে। প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় বেশ কিছু বাস নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে পারছে না। কিছু বাস প্রয়োজনের অর্ধেক তেল নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছে এবং যাত্রাপথে বাকি তেল সংগ্রহ করছে। তেল নিতে গিয়ে বাসচালকদের সময় বেশি লাগছে এবং বাসের শিডিউলও নষ্ট হচ্ছে। এতে যাত্রীভোগান্তিও বাড়ছে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ কাটাতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। বাস কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। সরকারি অফিসে ছুটি হয়েছে। গতকাল গার্মেন্টের ছুটিও শুরু হয়েছে। বিকাল থেকেই বাড়িফেরা মানুষের চাপ দেখা যায়। রাজধানীর কল্যাণপুর ও গাবতলী বাস টার্মিনালে বেশ কিছু বাস নির্ধারিত সময়ের পর গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কাউন্টার থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় বেশ কিছু বাস নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে পারছে না।

রাজধানীর দারুস সালাম রোডের খালেক পেট্রোল পাম্পসহ বেশ কয়েকটি পাম্প গতকাল বন্ধ দেখা গেছে। যেগুলো খোলা ছিল সেখানে ডিজেল নেওয়ার জন্য দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার বাইরে যাত্রী নিয়ে যাওয়া বাসগুলোর এক-একটির তেল নিতেই ১০ ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব মীর আহসান উদ্দীন পারভেজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। আগামী দুই দিন ডিপো খোলা থাকবে। যদি তেলের নিয়মিত সরবরাহ থাকে তাহলে ঈদযাত্রায় সমস্যা হবে না। আগামীকাল (আজ) যদি ডিপো থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেল সরবরাহ না করা হয় তাহলে ঝামেলায় পড়তে হবে।’

শ্যামলী এনআর পরিবহনের এক কর্মকর্তা জানান, ‘তেলসংকটের কারণে রাত ১১টার বাস ভোর ৪টায় ছাড়তে হয়েছে। সোমবার বেলা ১টায় যে বাসগুলো তেল নিতে পাম্পে গিয়েছিল সেগুলো তেল পেয়েছে রাত ১১টায়। এভাবে হলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা আছে। উত্তরবঙ্গের যে বাসগুলো ঢাকার উদ্দেশে আসছে, একবার তেল ভর্তি করে এগুলো ঢাকায় ফিরতে পারে না। একটি বাসকে যদি ১০ ঘণ্টা তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাহলে বাসের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’

যেসব পরিবহনের নিজস্ব ফিলিং স্টেশন নেই, তাদের অর্ধেক তেল নিয়েই ঢাকা ছাড়তে হচ্ছে। অবশিষ্ট তেল এসব পরিবহনের চালকরা ঢাকার বাইরের জেলা-উপজেলা শহরের পাম্প থেকে সংগ্রহ করছেন। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগছে। হানিফ ও সোহাগ পরিবহনের মতো বড় কোম্পানির বাস নিজস্ব পাম্প থেকে তেল নেওয়ায় তাদের শিডিউলে সমস্যা হচ্ছে না। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, একটি বাসের ১০০ লিটার তেল প্রয়োজন। দেওয়া হচ্ছে ৫০ লিটার। এতে বাসগুলোকে ফেরার পথে অন্য পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। হানিফ পরিবহনের কল্যাণপুরের কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব পাম্প থেকে বাসগুলো তেল সংগ্রহ করছে। এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রায় বাসের শিডিউলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

জ্বালানিসংকটের কারণে গতকাল কল্যাণপুর টার্মিনাল থেকে অনেক কোচ দেরিতে ছেড়েছে। এসআর পরিবহনের একটি বাস নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ছেড়ে যায়। কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রেতারা জানান, তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করার কারণে বাসগুলো শিডিউল মেনে কাউন্টারে আসতে পারছে না।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights