ঈশ্বরদীতে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, জনজীবন বিপর্যস্ত
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় জেঁকে বসেছে চলতি মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ। দুই দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পাওয়ায় হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বছরের প্রথম দিন (বৃহস্পতিবার) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সকালে ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত মঙ্গলবার ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি।
গত চার দিন সূর্যের দেখা না মিললেও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর রোদ দেখা দেয়। তবে উত্তরের হিমেল হাওয়ার দাপটে শীতের প্রকোপ ছিল। দিনের বেলা কুয়াশা কিছুটা কমলেও কনকনে ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র শীতে এসব এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ।
ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ভাসমান মানুষ ও চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে তাদের। দোগাছি ইউনিয়নের কোমরপুর চরাঞ্চলের বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, নদীর পাড়ে বাতাসের কারণে শরীর টিকছে না। ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজেও যেতে পারছি না।
এদিকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে চারা রক্ষার চেষ্টা করছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় গৃহপালিত পশুপাখিও কাবু হয়ে পড়েছে।
অনেক দিনমজুর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে কাজে বের হতে না পেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত বেসরকারি বা কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে বড় কোনো ত্রাণ তৎপরতা চোখে না পড়লেও সরকারি উদ্যোগে কিছু সহায়তা শুরু হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান শহরের কয়েকটি এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। তবে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দাবি, এই তীব্র শীত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কম্বল ও গরম কাপড় দ্রুত সরবরাহ করা প্রয়োজন।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানান, তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি থেকে তা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কুয়াশা কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
