উজানের ঢল নেই, তবুও হঠাৎ বিপৎসীমার ওপরে যমুনেশ্বরীর পানি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সাধারণত এ নদীতে উজানের ঢল না আসায় কখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করে না। তবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে নদীটির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টায় যমুনেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তারাগঞ্জ উপজেলার বারাতি পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহ ছিল ৩৪ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার।
এদিকে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে নদীভাঙনের শঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনেশ্বরী নদীর উৎপত্তি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। সেখান থেকে জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ হয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ অতিক্রম করে পীরগঞ্জে করতোয়া নদীতে মিশেছে। পরে করতোয়া হয়ে নদীটি যমুনায় গিয়ে পড়েছে। এটি একটি দেশীয় নদী, যেখানে সাধারণত উজানের ঢল নামে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ঠিক কত বছর পর যমুনেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, তা স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত এবং বিশেষ করে ডোমার-ডিমলা এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে নদীতে পানি বেড়েছে।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি খবির উদ্দিন প্রামাণিক ও সমাজ উন্নয়নকর্মী এহসানুল হক দুখু বলেন, বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লেও বিপৎসীমা অতিক্রম করার ঘটনা তারা আগে কখনো শুনেননি।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ডালিয়ায় ২২ মিলিমিটার, কাউনিয়ায় ১৮ মিলিমিটার এবং রংপুরে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির পানির কারণেই যমুনেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত পানি কমে যাবে।’
