উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত স্থবির কার্যক্রম
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন দপ্তরে শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল ৯টায় পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলায় অবস্থান নেন। এ সময় তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ এনে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির পর সকাল ১০টায় শিক্ষকদের একটি অংশ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক রেজিস্ট্রারকে উপাচার্যকে অসহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে চাপের মুখে রেজিস্ট্রার তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর কর্মচারীরা একে একে বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালকের অফিসে গিয়ে তাকে চাপ দেওয়া হয় এবং চাপের মুখে তিনি দপ্তর ছেড়ে বের হয়ে গেলে শিক্ষকদের নির্দেশে কর্মচারীরা দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইউম বলেন, আমাদের নির্দেশনায় প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়েছে। তালা ঝোলানোর সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, শিক্ষকদের নির্দেশনাতেই আমরা তালা ঝুলিয়েছি। আন্দোলনকারী শিক্ষক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রয় বলেন, আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। এরই মধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা আর তাঁকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করব না। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। কেউ আন্দোলন করলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মবিরতি পালন করতে পারে। তবে অন্যের কাজে বাধা দেওয়া এবং কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
