উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডায় ১৫৯তম ‘কানাডা ডে’ পালন

কানাডা প্রতিনিধি

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কানাডায় পালিত হয়েছে দেশটির ১৫৯তম ‘কানাডা ডে’। জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজনের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কানাডার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে জন্মদিনের কেক কাটা, শিশু-কিশোরদের ফেস পেইন্টিং, জাম্পিং গেমস, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা, আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী শারীরিক কসরত এবং আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ পৃথক শুভেচ্ছাবার্তায় দেশবাসীকে ‘কানাডা ডে’র শুভেচ্ছা জানান।

কানাডার অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ মানুষ দেশটিতে অভিবাসন নেন। বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, জননিরাপত্তা, স্থিতিশীল অর্থনীতি ও শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে কানাডা বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দেশ হিসেবে পরিচিত।

তবে এবারের ‘কানাডা ডে’ আলবার্টা প্রদেশে ছিল কিছুটা ভিন্ন আবহের। দেশপ্রেমের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার অনুভূতিও ছিল অনেক বাসিন্দার মধ্যে। কারণ, প্রদেশটির সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতা নিয়ে গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে।

আগামী ১৯ অক্টোবর আলবার্টার ভোটাররা সিদ্ধান্ত দেবেন, প্রদেশটি কানাডার অংশ হিসেবেই থাকবে নাকি কনফেডারেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ও বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ গণভোটকে সামনে রেখে মে মাস থেকেই পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন সংগঠন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

এ কারণে এবারের ‘কানাডা ডে’তে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও কানাডাপন্থী- উভয় পক্ষই আলবার্টাবাসীকে দেশের অতীত, অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন গণভোটের ফল শুধু আলবার্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, কানাডার জাতীয় ঐক্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights