এআই মানুষের সৃজনশীলতার বিকল্প হতে পারে না: ক্রিস্টোফার নোলান
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনোদন ও সৃজনশীল শিল্পে এআই-এর ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন অস্কারজয়ী বিখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান।
তার মতে, করপোরেট বিশ্ব এআই-কে লুফে নিলেও সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রযুক্তির প্রতি এক ধরনের ‘অবজ্ঞা’ তৈরি হয়েছে। এআই মানুষের সৃজনশীলতার জায়গা দখল করে নেবে, এমন ধারণা একেবারেই ‘অযৌক্তিক’।
সম্প্রতি নিজের নতুন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’-এর প্রচারণায় প্যারিসে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোলান এসব কথা বলেন। গ্রিক মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত বড় বাজেটের এ চলচ্চিত্রটি চলতি সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই নির্মিত নিম্নমানের টেক্সট, অডিও ও ভিডিওর প্রতি ইঙ্গিত করে নোলান বলেন, তরুণ প্রজন্ম এর নাম দিয়েছে ‘এআই স্লপ’। এআই দিয়ে তৈরি জিনিসের প্রতি মানুষের এক ধরনের অবজ্ঞা বা ঘৃণা রয়েছে।’ তবে নোলান মনে করেন, এআই ভবিষ্যতে কিছু দরকারি ‘ইমেজিং টুল’ বা দৃশ্যমান অনুষঙ্গ তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতাকে এটি পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে, এমনটা ভাবা অর্থহীন বা নেহাতই বোকামি।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘ওপেনহাইমার’ মুক্তির সময় দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোলান এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কারের পর যেমন এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, উন্নত এআই নিয়েও এখন একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। তার মতে, ওপেনহাইমারের পারমাণবিক সংযমের আহ্বান এবং ড. জিওফ্রে হিনটনের মতো এআই বিশেষজ্ঞদের উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তার মধ্যে ‘খুবই শক্তিশালী মিল’ রয়েছে।
সে সময় নোলান আরও বলেন, তার বিশ্বাস ভবিষ্যতে এআই একটি শক্তিশালী প্রযুক্তিগত হাতিয়ার হয়ে উঠবে। তবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। বিশেষ করে করপোরেট ব্যবস্থাপনা, নিয়োগকর্তা বা প্রযোজকেরা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে এআই-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারেন।
তিনি আরও বলেন, এআই তাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক প্রশ্নের মুখোমুখি করে। আর সেই প্রশ্নগুলো প্রায়ই তার পরবর্তী চলচ্চিত্র বা সৃজনশীল কাজের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
এআই মূলত মানুষের তৈরি কোটি কোটি ডেটা রিঅ্যারেঞ্জ বা জোড়াতালি দিয়ে একটি আউটপুট দেয়। কিন্তু মানুষের দুঃখ, কষ্ট, অভিজ্ঞতা ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা থেকে যে শিল্প তৈরি হয়, একটি কোডিং সফটওয়্যার তা পারবে না। তাই এটি ভালো ইমেজিং টুল বা এডিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে পারলেও, মানুষের মতো সৃজনশীলতার বিকল্প হওয়া অসম্ভব বলেই মত বিশেজ্ঞদের।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
