এআইয়ের প্রসারে চীনের অর্থনীতির পালে হাওয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছরে চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে বেড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.৩ শতাংশ। সর্বশেষ এই প্রবৃদ্ধির হার অধিকাংশ বিশ্লেষকের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৬ শতাংশ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেইজিংয়ের প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও, অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়া এবং আবাসন বাজারের মন্দার কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি চলতি বছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময়কাল বাদে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হবে সবচেয়ে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের রপ্তানি ১৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ২৩.১৯ বিলিয়ন ইউয়ানে (৩.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পৌঁছেছে। এর মূল কারণ হলো সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট পণ্যের জোরালো চাহিদা।

অভ্যন্তরীণ ভোগের একটি প্রধান সূচক খুচরা বিক্রি সেপ্টেম্বর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.১ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে বছরের প্রথম নয় মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল ২.৬ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন যা মূলত উৎপাদন শিল্প ও খনি খাতের আউটপুট পরিমাপ করে। সেই হিসেবে সেপ্টেম্বরে এই খাতে হার বেড়েছে ৫.৫ শতাংশ। ফলে বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে শিল্প খাতের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫.৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। স্থির সম্পদে বিনিয়োগ যার মধ্যে আবাসন খাত, কারখানা এবং যন্ত্রপাতির পেছনে ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। গত মাসে ০.৭ শতাংশ বাড়লেও, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়কালে তা ৭.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ বিজনেসের ফিন্যান্সের অধ্যাপক ঝিগুও হে। যিনি চীনের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেন। এই গবেষক বলেন, যদিও চীনের অর্থনীতি সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথেই রয়েছে, তবুও রপ্তানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর অব্যাহত নির্ভরতা নিয়ে বেইজিং সতর্ক থাকবে। আমার ধারণা, বেইজিং তাদের কাঙ্ক্ষিত ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিই পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একটি নিয়ন্ত্রিত ও ধীর গতিতে প্রবৃদ্ধি কমে আসাই বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশা হতে পারে। রিয়েল এস্টেট খাত এখনও সংকুচিত হচ্ছে। বেইজিং এটাই চেয়েছিল এবং এটি একটি ভালো বিষয়; চীনের পরিবারগুলোও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশাগুলো সে অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights