একাকিত্ব আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়

অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন পেশায় যুক্ত হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তমা মির্জা। প্রায় তিন মাস ধরে একটি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে কি অভিনয় থেকে দূরে সরছেন এই দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী, এ বিষয়ে তাঁর বলা কথা তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

নতুন পেশায় যুক্ত হয়েছেন, কেমন লাগছে?

হুম, বেশ উপভোগ করছি বলতে পারেন। নতুন এ পরিচয় ও কাজ, অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে আমার মধ্যে। নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ। নতুন বন্ধুও পেয়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ কাটছে সময়টা।

অভিনয়ে আর নিয়মিত থাকছেন না?

একবারেই না, নতুন এ পেশার পাশাপাশি অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। এ ছাড়া অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা আর ভালো লাগার জায়গা। এখানেই আছি এবং থাকব। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও আমার অভিনয়ের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।

নতুন পেশার কারণে অভিনয়ে সময় দেওয়াটা কতটুকু সম্ভব হবে?

আমি তো একনাগারে সব ধরনের গল্পের সিনেমায় কাজ করি না। খুব বেছে বেছে বছরে দু-একটি সিনেমা করি। জীবনের বাকিটা সময় অন্য কিছুতে এক্সপ্লোর করতে পারার এ সুযোগটা দারুণ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। তাই নতুন পেশার কারণে অভিনয়ে খুব একটা সমস্যা হবে বলে মনে করি না। জবের পাশাপাশি অভিনয়ের জন্য একটা সময় বের করে নিতে হবে।

আগামীতে দর্শক বড়পর্দায় কখন পেতে যাচ্ছে আপনাকে?

হ্যাঁ, নতুন সিনেমার প্রস্তুতি নিচ্ছি। চলতি মাসের শেষের দিকে শুরু করব ‘খলনায়ক’ সিনেমায় অভিনয়। এটি পরিচালনা করবেন ভিকি জাহেদ।

সুড়ঙ্গ বা দাগি, একই ধারার গল্পেই ফিরছেন?

না, আমার কাছে মনে হয়েছে, ‘দাগি’র পর এর চেয়ে সুন্দর গল্পে ফেরাটাই আমার জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। ‘খলনায়ক’ সিনেমায় আমার চরিত্রটিও বেশ মনে ধরেছে। আশা করছি এতে দর্শক এক নতুন তমাকে দেখতে পাবে।

দর্শক কতটা নতুন তমাকে ফিরে পাবে?

২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘নদীজন’-এ অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পর সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙেছি, বদলেছি, অভিনয় ধরন পাল্টেছি। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘সাত নম্বর ফ্লোর’, ‘ফ্রাইডে’, ‘সুড়ঙ্গ’ ও সর্বশেষ ‘দাগি’তে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় সেই পরিবর্তনের প্রমাণ। এবারও ঠিক তাই।

নিজের দ্বৈত ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা কেমন?

আমি আসলে শুধু বর্তমানের সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। ভবিষ্যতে যখন হয়তো কাজ কমে যাবে, তখনো যেন মানুষ আমাকে ভালো কাজের জন্য মনে রাখে সেই চেষ্টাই করে যাব।

আমার একটাই ইচ্ছা, হয়তো অনেক বছর পর নানা কারণে অভিনয় না-ও হতে পারে। তখনো যেন এখন যেমন দর্শক আমাকে ভালোবাসছে, আমার কাজ দেখে প্রশংসা করছে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে পারছি, আরও ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট ক্যারেক্টার করতে পারি এবং এসব কাজ যেন বেঁচে থাকে, সেই কাজ দিয়েই যেন মানুষ আমাকে মনে রাখে।’

অল্প বয়সে অভিনয়ে আসা, এরপর দ্রুত দর্শক নজর কাড়া, কীভাবে সম্ভব হলো?

আমি মনে করি, যেকোনো পেশায় আসার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে ক্যারিয়ার শুরুর আগে এটা যে কাউকে ম্যাচিউর করে তুলবে। বলা হয়, সবকিছুর একটা সময় থাকে। ওটা আমার সময় ছিল না। যদিও আমি ওই সময়ে কিছু ভালো কাজ করেছি। এটা নিয়ে রিগ্রেট করছি না। কিন্তু যেসব তরুণ অভিনয়ে আসতে চান, তাদের উদ্দেশে অভিজ্ঞতা থেকে বলব, একটা সময়ের পর প্রস্তুতি নিয়ে আসা উচিত। তাহলেই দ্রুত সাফল্য পাওয়া সম্ভব।

দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া আসলেই কি কঠিন?

না, মনে করুন আমার দুটো ডানা আছে, কিন্তু ডানা মেলে উড়তে পারছি না। তখন আকাশটাই ছোট মনে হয়। শিল্পীর নিয়মিত কাজ থাকা উচিত। বছরে যদি তিন থেকে চারটি মানসম্মত কাজ করা যায়, তাহলে নিজেকে আরও গড়েপিটে তোলা যায়, দর্শকের ভালোবাসাও সহজে মেলে।

একাকী সময় কীভাবে কাটে?

এক কাপ চা হাতে নিয়ে ঘরের ভিতরে হেঁটে বেড়াই। ভাবি, জীবনে কী ভুল করেছি, কেন করেছি। কীভাবে শোধরানো যেত। এখনো কি কিছু ভুল করছি? ভবিষ্যতে ভুল যাতে না হয়, তার পরিকল্পনা করি। এই একাকিত্বই আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights