এখনো হারিয়ে যায়নি গোবরের ঘুটির ব্যবহার

নজরুল মৃধা, রংপুর

ঘর-গৃহস্থের কাজে ব্যবহৃত জ্বালানিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে অনেক আগেই। এক সময় কাঠ খড়ি, কাঠের গুড়া, গাছের ডাল-পালা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হত। এখন এসবের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে গ্যাস, চারকল ইত্যাদি।

জ্বালানিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক পরিবার জ্বালানি হিসেবে গোবরেরর ঘুটি ব্যবহার করছেন। রংপুরের গ্রামাঞ্চলে এখনও ৩ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ জ্বালনি হিসেবে গোবরে ঘুটি ব্যবহার করছেন। অনেকে গোবরের ঘুটি বানিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এতে আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি অন্যান্য জ্বালানির ওপর চাপ কমছে। রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে রাস্তার দুইপাশে গোররের ঘুটি তৈরী করে শুকাতে দিচ্ছেন গ্রামের গৃহবধূরা।

নগরীর উপকণ্ঠে কোবারু নামক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক গৃহবধূ গোবরের ঘুটি তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আরজিনা নামে এক জনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাড়ির গাভির মল দিয়ে তারা এই ঘুটি বানাচ্ছেন। এতে তাদের জ্বালানির চাহিদা মিটছে। আরেক গৃহবধূ জানান গোবরের ঘুটির চাহিদা রয়েছে গ্রামে। তিনি প্রতিপিছ গোবরের ঘুটি এক টাকা করে বিক্রি করেন। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসারের টুকিটাকি চাহিদা মেটান।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গরুর মল শুকিয়ে পাট কাঠিতে গোবর মাখিয়ে এই ঘুটি তৈরী করা হয়। আবার কেউ কেউ পাটখড়ি বাদেও গোবরের দলা শুকিয়ে ঘুটি তৈরী করেন। গোবর শুকালে চটচটে ভাব বা গন্ধ কোনটিই থাকে না। শুকালে গোবরের রং কিছুটা পরিস্কার হয়। ফলে গোবরকে লাকরি হিসাবে ব্যবহার করতে কোন অসুবিধা হয় না।

কৃষিবিদরা বলেন, শুকাতে দিলে গোবরের জলীয় অংশ কমে যাবার ফলে এর আয়তনও ছোট হয়ে যায়। ফলে রোদে খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় এবং জ্বালানি হিসেবে দাউ দাউ করে জ্বলে। গ্রাম বাংলায় গোবরের ঘুটি অনেকের কাছে সহজলভ্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচারক আবু সায়েম বলেন, আগের চেয়ে গোবরের ঘুটির ব্যবহার কমেছে। তবে গ্রামঞ্চলে এখনও ৩ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ গোবরের ঘুটি ব্যবহার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights