এভিল আই কী?

অনলাইন ডেস্ক

ঘন নীল রঙের গোলাকার কাচের একটি বস্তু। যার মাঝখানটা দেখতে অনেকটা চোখের মতো। এর নাম নাকি এভিল আই বা শয়তানের চোখ? কিন্তু কেনো হঠাৎ বিশ্বজুড়ে শুরু হলো এই এভিল আই ট্রেন্ড?

ইনস্টাগ্রামে ‘হ্যাশট্যাগ এভিল আই’ ব্যবহারের অঙ্ক দেখলে চোখই কপালে ওঠার জোগাড় হবে। হলিউডের মডেল, অভিনেত্রী কিম কার্দাশিয়ান থেকে বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান সকলেই মজেছেন এই চোখে। তা দেখে কলেজপড়ুয়ারাও সেই চিহ্ন দেওয়া গয়না খুঁজছেন। গয়নায় ‘ইভিল আই’-এর ব্যবহার শুধুই কি ফ্যাশন ট্রেন্ড নাকি এই বস্তুটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস?

গয়নায় ‘এভিল আই’ ব্যবহারের হুজুগ খুব বেশি দিনের নয়। তবে এই ‘এভিল আই’ আসলে পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ধারণা। মিশরীয় সভ্যতায় এর আবির্ভাব। পরে অবশ্য পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবিয়া, লাতিন আমেরিকা হয়ে এক সময়ে ভারতীয় সংস্কৃতিতেও ঢুকে পড়ে এই বিশেষ চোখটি। গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর ‘সিম্পোসিয়াম’-এও ‘এভিল আই’-এর প্রতি মানুষের বিশ্বাস এবং তার ব্যবহারের নানা উল্লেখ পাওয়া যায়। চিনা ‘ফেংশুই’ শাস্ত্রেও এই জিনিসটি বেশ প্রচলিত।
অন্যের নজর যাতে না লাগে, তা নিশ্চিত করাই কাজ এই ‘এভিল আই’-এর। শিশুদের হাত-পায়ে কালো কার, কোমরে কিংবা গলায় জালকাঠি পরানোর যেমন চল ছিল নজর কাটানোর জন্য, এও তেমন। কুনজর তাড়ানোর প্রাচীন সেই চিহ্নই এখন ফ্যাশনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। হলিউড, বলিউডে পৌঁছে গেছে।

গ্রিক পুরাণে বর্ণিত ‘এভিল আই’-এর আকার ক্যারমের স্ট্রাইকারের চেয়ে খানিক বড়। স্বচ্ছ, নীল রঙের কাচের বস্তুটির একদম মাঝখানে থাকে চোখের মণির মতো কালো রঙের একটি বিন্দু। সেই বিন্দুটিকে ঘিরে রয়েছে আরও দু’টি স্তর। বাইরেটা আকাশি নীল এবং তার পরের অংশটি সাদা। ঘন নীল অংশটির উপর দিকে থাকে ছোট একটি ছিদ্র। সেই ছিদ্র দিয়ে গলানো হয় মোটা সুতো বা দড়ি। অনেকটা হারের সঙ্গে থাকা লকেটের মতোই। ওই সুতো থেকে ঝুলতে থাকে ‘এভিল আই’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights