কক্সবাজার হবে বিশ্বমানের পর্যটন হাব
হাসানুর রশীদ, কক্সবাজার
অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা কক্সবাজার এখন দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। কিন্তু কক্সবাজার বিচ দিনদিন ঝুঁকিপূর্ণ ও সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়েছে। পর্যটকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি বিস্তর ফারাক রয়েছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হলেও পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন কিছুই তৈরি হয়নি। বছরে শত কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজারকে সেভাবে সাজানো হয়নি, নেই আধুনিক সুবিধা, নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সবচেয়ে বড় ভোগান্তি পর্যটন এলাকায়। তবে দ্রুত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটক ভোগান্তি কমবে।’ ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ শ হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজ গড়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ছয়টি তারকা হোটেলসহ রয়েছে ২৪টি বড় হোটেল। গড়ে উঠেছে তিন শতাধিক রেস্তোরাঁও। তবে অধিকাংশ স্থাপনা গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হয়নি পরিবেশ রক্ষা নীতিমালা। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশ-প্রতিবেশের, আর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যেও।
মাস্টারপ্ল্যান ও ‘গ্রোথ হাব’ : কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ পর্যটনশিল্প পূর্ণতা পাবে। সরকার বর্তমানে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, যেখানে কক্সবাজারকে একটি মূল ‘গ্রোথ হাব’ বা অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে দেশের দীর্ঘতম (১০,৭০০ ফুট) রানওয়েতে পরিণত করা হয়েছে।
ডিজিটাল ও স্মার্ট সিটি : উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশগত নিয়মকানুন এবং মেরিন ড্রাইভের বিধিনিষেধগুলো পুনর্বিবেচনা করে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন জোন তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য আলাদা সেভিং জোন ও নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাড়ছে আরও সুবিধা : বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মোটেল লাবণী ও হোটেল শৈবাল এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারের (পিপিপি) ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যটন সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করছে। এসব সুবিধার মধ্যে থাকবে বিনোদনকেন্দ্র, ফুড জোন, শপিং আউটলেট, সিনেপ্লেক্স, সুইমিং ও ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি, জিম ও স্পা, অ্যাকোয়ারিয়াম, গেম জোন এবং হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্থান। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন সাম্প্রতিক গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে কক্সবাজার। বাড়বে আধুনিক সুবিধা, যা বিদেশি পর্যটক টানতেও সহায়ক হবে।
