কাঁঠালের পুষ্টিগুণ

চৌধুরী তাসনিম হাসিন

কাঁঠালের সুমিষ্ট স্বাদ পুষ্টিগুণ ও উপযোগিতার ফলে এটিকে আমাদের দেশে বলা হয় জাতীয় ফল। এক কাপ কাঁঠালে ১৫৭ ক্যালোরি, ২ গ্রাম ফ্যাট, ৩ গ্রাম প্রোটিন, ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪০ গ্রাম ক্যালসিয়াম এবং আরো অনেক ইম্পরট্যান্ট মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট আছে। কাঁঠালের প্রোটিনে বেশিরভাগ অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড অন্তর্ভুক্ত। কলা, আপেল এমনকি বিদেশি ফল অ্যাভোকাডোর থেকেও অনেক বেশি পরিমাণ ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায় এই কাঁঠালে। কাঁঠালের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা আমাদের চোখ ও স্কিনের স্বাস্থ্য এমনকি রোগ প্রতিরোধে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। কাঁঠাল গাট মাইক্রোবায়ম ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে; যার ফলে কনস্টিপেশন, আলসার, ক্যান্সারের মতো জটিল সমস্যা অনেক অংশে কমে আসে। এ ছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কাঁঠাল আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ফাইবার আমাদের ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে এর পাশাপাশি স্যাটাইটি মেইনটেইন করে আমাদের ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কাঁঠালে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড যা আমাদের রক্তস্বল্পতা রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। থাইরয়েড জ্ঞান মেটাবলিজমের জন্য প্রয়োজন কপার, এই কপারও আছে যথেষ্ট পরিমাণে এই কাঁঠালের। খুব কম ফলই আছে যা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ, তার মধ্যে কাঁঠাল একটি। পাকা কাঁঠালে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যার অভাবে আমাদের দেশে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি। কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে সেকেন্ড ক্লাস প্রোটিন, ফাইবার, পটাশিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট। তবে কাঁঠালের প্রচুর উপকারী ভূমিকা থাকলেও পূর্ব থেকেই যারা নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, যেমন : আনকন্ট্রো-লড ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ ইত্যাদি; তাদের ক্ষেত্রে এই ফলটি খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে পরিমাণটি নির্ধারণ করে দেবে একজন ক্লিনিক্যাল ডায়েটশিয়ান।

লেখক: চিফ ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ান ইউনাইটেড হসপিটাল, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights