কাজ শুরু হলেও দুঃখ ঘুচছে না সড়কটির
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
কয়েক বছর ধরেই গর্ত আর খানাখন্দে বেহাল দশা ছিল রাজশাহী-তানোর সড়কের। চলাচলের অনুপযোগী এই পথে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হয়েছে সড়কটির সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ। কিন্তু কাজ শুরু হলেও তার গতি খুবই ধীর।
সাড়ে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান দুটি প্রকল্পের মধ্যে তানোর অংশের কাজ গত এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
অন্যদিকে পবার বায়া থেকে বাগধানী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু হয় এ বছরের এপ্রিলে। সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের পাশাপাশি সড়কটি দুই পাশে ৩ ফুট করে চওড়া করা হচ্ছে। কাজ শেষ হয়েছে ১০ শতাংশ। এ অবস্থায় কাজ চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একই সড়কের বাগধানী থেকে কাশিম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের কাজ এ বছরের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। নতুন করে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ডিসেম্বর পর্যন্ত।
চান্দুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা খুরশিদ আলম বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খুবই খারাপ। আশার কথা সংস্কার কাজ হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের সুবিধা হবে।’ আমশো এলাকার স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই কাজটি দ্রুত শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’
জ্বালানিসংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধিতেই এই বিপত্তি জানিয়ে সৌকত এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক টিজার বলেন, এলজিইডির নির্ধারিত প্রাক্কলন অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছিল, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিটুমিনের বাজারে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি টন বিটুমিনের দাম ৭০ হাজার টাকা থেকে লাফিয়ে ১ লাখ ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা সরকারি দরের চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণেই কাজ কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে। দাম সহনীয় পর্যায়ে এলে আমরা দ্রুত কাজ শেষ করব।’ কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না জানিয়ে তানোর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, ‘সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছি। এখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।’ রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটির সংস্কার কাজে নির্মাণসামগ্রী কম ব্যবহার বা মানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগই নেই।
