কালবৈশাখী ঝড়ে দুইদিন বিদ্যুৎহীন চাঁদপুরের শতাধিক গ্রাম, ঈদ উদযাপনে ভোগান্তি
চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর, হানাচর, চান্দ্রা ও বালিয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম টানা দুইদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার (২৭ মে) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দিবাগত রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে ঈদ উপলক্ষে গ্রামে আসা মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক এলাকায় কোরবানিও দিতে পারেননি স্থানীয়রা।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ে বড় বড় গাছ উপড়ে সড়ক ও বসতঘরের ওপর পড়ে আছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার শেখ বলেন, ‘মঙ্গলবার গভীর রাতে ঝড়ের পর বিদ্যুৎ চলে যায়। দুইদিন পর বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে। কিন্তু শুক্রবার সকালেই আবার চলে যায়। আমাদের গ্রামে অনেকেই কোরবানি দেননি। এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই ফ্রিজ রয়েছে। কোরবানির মাংস সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় মানুষ কোরবানি থেকে বিরত থেকেছে।’
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করেন।
চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন বলেন, ‘ঝড়ে সড়ক ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ পড়ে। আগেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ করা হলে এমন পরিস্থিতি হতো না। পল্লী বিদ্যুতের অবহেলার কারণেই মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’
একই এলাকার বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর ও জব্বার ঢালী এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের ছেঁড়া তার সড়কে পড়ে ছিল। পাশের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নেও একই অবস্থা দেখা গেছে।’
তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালের ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে পরিবারের তিন সদস্য আহত হন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ঝড়ের পর থেকেই আমাদের কর্মীরা কাজ করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। এরপরও কোথাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
