কালীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে আলোচনায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতা জহির হাসান মোহন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
আসন্ন কালীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে মেয়র পদে ভোট যুদ্ধে নামছেন
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জহির হাসান মোহন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।
জহির হাসান মোহন কালীগঞ্জ উপজেলার ৫ নং শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের সংক্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উক্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবং নুর জাহান বেগম দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান। তার বড় দুই ভাই ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।
ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ায় জহির হাসান মোহন কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের মোস্তফা কামাল টিটো-মাসুদ রানা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঝিনাইদহ ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কাজী মাসুদ করীম-সজীব কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের শ্রাবণ-জুয়েল কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক এই ছাত্রনেতা জানান, তিনি দলের ক্রান্তি লগ্নে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করার কারণে ফ্যাসিস্ট সরকারের দেওয়া মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ৭ বার কারাবরণ করেছেন। দেশের মাগুরা, কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে তাঁকে থাকতে হয়েছে মাসের পর মাস । রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে
সে সময় পর্যায়ক্রমে সর্বমোট ১১টি মামলা হয়। এছাড়া ৪ দিন গুম এবং ৭ দফায় মোট ৬৪ দিন পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় ।
তিনি আরও জানান,দলের কঠিন সময়ে আমি রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের জন্য কাজ করেছি। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা রেখে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি। স্থানীয় সরকারের পৌরসভার নির্বাচনে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এ পৌরসভায় ২২ হাজার ৪৬৩ জন পুরুষ ভোটার ২২ হাজার ৯০৪ জন মহিলা ভোটার এবং ১জন হিজড়া ভোটার মিলে সর্বমোট ৪৫ হাজার ৩৬৮ জন ভোটার রয়েছেন। পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ড মধুগঞ্জ বাজারের স্থানী বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা জহির হাসান মোহন। তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সাথে সার্বক্ষণিক জড়িত । তাঁর উদ্যোগে এবং অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ,দুস্থ রোগীদের চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি পালন , ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম তিনি নিজ তত্ত্বাবধানে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে এই কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করে থাকেন।
এছাড়া দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও তিনি দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন ।

মেয়র নির্বাচিত হলে কালীগঞ্জ পৌরসভাকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভায় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন জহির হাসান মোহন।
তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—ফুটপাত দখলমুক্ত করা,পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠ তৈরি,বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ, বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ এবং পৌরসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
পাশাপাশি কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের জন্য আধুনিক ভবন নির্মাণে সহায়তা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং সবুজ শহর বিনির্মাণেও কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জহির হাসান মোহন বলেন, “আমি কালীগঞ্জকে একটি আধুনিক, সবুজ ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে দেখতে চাই। পৌরসভার উন্নয়নে যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করব।

মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জহির হাসান মোহন বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলেন। তাই দল তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, “কালীগঞ্জ পৌরসভার সাধারণ মানুষ আমার পাশে আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। আমি বিশ্বাস করি, দল সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেবে।”
কালীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে কারা প্রার্থী হচ্ছেন এবং দলীয়ভাবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জহির হাসান মোহনের প্রার্থিতা নিয়েও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন।
পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অঞ্জলি রানী বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে জহির হাসান মোহন ভাইকে চিনি।বর্তমান তার কর্মকাণ্ড আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।আমি মনে করি তিনি মেয়র পদে নির্বাচিত হলে জনকল্যানে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারবেন।

পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম তোতা বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে গড়ে ওঠা তরুণ নেতা জহির হাসান মোহন দলীয় মনোনয়ন পেলে আমরা তার জন্য এক একাট্টা হয়ে কাজ করব। রাজনীতিতে তার যথেষ্ট ত্যাগ রয়েছে। দল বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশা রাখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights