কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কালকিনিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনা সভা

অনলাইন ডেস্ক

মাদারীপুরের কালকিনিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কালকিনি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সভায় বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কালকিনি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি নাহিদ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন শাখার সাধারণ সম্পাদক তানহা ইসলাম।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে কিশোর গ্যাংয়ের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন,গ্যাং মানেই যে খারাপ—এমন নয়। যারা দলবদ্ধভাবে ভালো কাজে যুক্ত থাকে, যেমন লাইব্রেরিতে বই পড়া বা সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া—তারাও এক ধরনের গ্যাং। বসুন্ধরা শুভসংঘও একটি গ্যাং, তবে এটি একটি সম্পূর্ণ ইতিবাচক গ্যাং, যা মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, নেতিবাচক কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকবে এবং ভালো কাজে যুক্ত থাকবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করবে—এটাই তোমাদের দায়িত্ব।

সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কালকিনি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিয়া মো. আব্দুল কাইয়্যুম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কিশোরদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন একসঙ্গে কাজ করলেই কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কালকিনি উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মিন্টু, বসুন্ধরা শুভসংঘ কালকিনি শাখার সহ-সভাপতি মনির সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মুবিন, অর্থ সম্পাদক জুবায়ের আহম্মেদ, আপ্যায়ন সম্পাদক সৈয়দ শারাফাত, এবং সদস্য পাভেল, সিফাত মাহমুদ, জিহাদ, নিলয় তনময়সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কিশোর গ্যাং মূলত ভুল বন্ধুত্ব, পারিবারিক অবহেলা, মাদকাসক্তি ও প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে গড়ে ওঠে। এ থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি।সভা শেষে শিক্ষার্থীরা কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার এবং সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights