কুড়িগ্রামে পানি কমলেও বানভাসীদের দুর্ভোগ কমেনি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে নিম্নাঞ্চলের বাড়ি-ঘর এখনও তলিয়ে থাকায় বানভাসীদের দুর্ভোগ রয়েছে। গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

চরের ও দ্বীপচরের ৪৫টি ইউনিয়নের প্রায় ১৮৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক বানভাসী মানুষের জীবনযাপন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গত এক সপ্তাহ যাবত নদ-নদী তীরবর্তী ও চর এলাকার ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে এসব মানুষজনের। ফসলিজমি নিমজ্জিত থাকায় নষ্ট হতে চলেছে অনেক ফসল।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২য় দফা বন্যায় ১ হাজার ৪শ ৮৭ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধান, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি নিমজ্জিত হয়েছে। এর আগে ১ম দফা বন্যায় ২৪৫ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হলেও ১০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত পুরো নষ্ট হয়ে গেছে।তবে এবার পানি নেমে গেলেও ক্ষতির পরিসংখ্যান তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, বন্যায় ইতোমধ্যে ৬৫০টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বন্যার কারণে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও এখনও তা চালু করতে পারেনি শিক্ষা বিভাগ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাঈদুল আরীফ জানান, সরকারিভাবে আমরা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত নগদ অর্থ আড়াই লাখ টাকা ও শুকনো খাবার ১৬ হাজার প্যাকেট এবং ৩৬৩ মে.টন চাল বন্টন করেছি। এছাড়াও মওজুদ রয়েছে। আরো বেশ কিছু নতুন বরাদ্দ হাতে পেয়েছি তা দ্রুত উপজেলা পর্যায়ে প্রদান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights