কুড়িগ্রামে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও ফরম পূরণের টাকা লুটের অভিযোগ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর কামাল খামার ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলীর ওপর হামলা ও ফাজিল পরীক্ষার ফরম পূরণের ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
জানা গেছে, গত ২৮ জুন দুপুরে মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কার্যক্রম চলছিল। এ সময় অধ্যক্ষ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় শামসুল, মনজুরুল ইসলাম মিন্টু, আবুল কালাম কাওসার, রোমান, রেদওয়ান ও নাজমুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ তার কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন।
পরে তারা টাকার দাবি করে অধ্যক্ষকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ফরম পূরণের ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং টেবিলের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক নোমান মিয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে উলিপুর থানা পুলিশের সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে।
পরে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক ওবায়দুল হক বলেন, “ঘটনার সময় আমি অন্য একটি মাদ্রাসায় ছিলাম। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত উলিপুর থানার ওসিকে অবহিত করি। তিনি পুলিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, পুলিশ আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। এরপর আমি হাসপাতালে গিয়ে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে। তাকে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
