কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হত্যা : ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৬
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গ্রামে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আমিরুল ইসলাম নান্নু (৫২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতের এ হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম জানান, নিহতের নাম আমিরুল ইসলাম নান্নু। তিনি উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে মাছ চাষের পুকুরে যাওয়ার পথে খুন হন তিনি। রাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মরদেহ গ্রামে নিয়ে বেলা ৪টার দিকে দাফন করা হয়েছে।
ওসি বলেন, সামাজিক দলাদলিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। তিনি বলেছেন, বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাইকে আসামিরা ধরে গ্রামের আকালের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, হালিম, আকাশ রেজা ও সবুজের নির্দেশে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। পরে মারতে মারতে মৃত্যু নিশ্চত করে রহমত মাস্টারের কলার বাগানের পাশে রেখে দেয়।
জহিরুল ইসলাম বলেন, আকাশ রেজা ও সবুজের সঙ্গে নান্নুর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল।
ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনিসুর রহমান জানান, প্রভাব বিস্তার নিয়ে গ্রামে ফারাজী ও শেখ দুটি দলে বিভক্ত মানুষ। সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে দুই পক্ষে ভোট করা নিয়ে ও জমি নিয়ে তাদের বিরোধ রয়েছে। এসবের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে আমরা কয়েকজনের নাম পেয়েছি। এরই মধ্যে চেয়ারম্যানসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত রামদা, সড়কিসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
