খুলনায় অচল চিকিৎসাসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

খুলনায় চিকিৎসককে মারধর ও অপারেশন থিয়েটার ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে শিশু রোগী জিম্মি করে তার মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করা হয়। বিষয়টি পাল্টাপাল্টি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে খুলনায় ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকাল থেকে খুলনার সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ রোগীরা।

গতকাল দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী জানান, ৬ ফেব্রুয়ারি তার শিশু সন্তানকে ড্রেসিং করানোর জন্য হক নার্সিং হোমে গেলে ডা. শেখ নিশাত আবদুল্লাহ তাকে নিজের চেম্বারে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। তার পরও মেয়ের চিকিৎসার কথা ভেবে পুরো বিষয়টি তিনি গোপন রাখেন। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ মেয়ের হাতের আঙুলের অর্ধেকাংশ ব্যান্ডেজসহ খসে পড়ে যায়। আতঙ্কিত অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে হক ক্লিনিকে গেলে তারা চিকিৎসা দিতে অনীহা জানায়। তখন ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে ডা. নিশাত আবদুল্লাহ হাতের ব্যান্ডেজ করে দেন। তিনি মেয়েকে জিম্মি করে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব, জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও চিকিৎসা অবহেলায় তার মেয়ের অঙ্গহানির অভিযোগে মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে ডা. শেখ নিশাত আবদুল্লাহ মঙ্গলবার রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় তাকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও অপারেশন থিয়েটার ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করেন। এদিকে গত রাতে অনুষ্ঠিত খুলনা বিএমএর সভায় চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বিএমএ, খুলনার সভাপতি ডা. বাহারুল আলম বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হামলার ঘটনায় দোষীরা গ্রেফতার না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আজ বেলা ১১টায় খুলনা আবু নাসের হাসপাতালের সামনে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights