গাজীপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার ২
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সিএনজি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আসামি গ্রেফতার এবং সিএনজি উদ্ধার করলো পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা হলো, মুন্সিগঞ্জ জেলার মুন্সিগঞ্জ সদর খানকা দালালপাড়া গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের ছেলে মো. সমরাট ওরফে সম্রাট (৩৩) ও ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার কইখালি বাজারের মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে আল আমিন (২৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল রাত ৪টার দিকে মো: কামরুল ইসলাম তার চাচাতো ভাই মো: হাসেম (৪৭) কে সঙ্গে নিয়ে অপর চাচাতো ভাই আ: হেকিম সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাকে দেখার জন্য টঙ্গীর ভাড়া বাসা থেকে তার সিএনজি নিয়ে গ্রামের বাড়ী নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে রওনা করে। রাত সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইল থানাধীন হায়দ্রাবাদ এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছা মাত্রই একটি হাইস গাড়ী থেকে চারজন লোক নেমে তার সিএনজি থামানোর জন্য সিগন্যাল দেয়। বাদী সিএনজি থামালে অজ্ঞাতনামা লোক নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে সিএনজি তল্লাশি করার কথা বলে কামরুল ও তার ভাইকে সিএনজি থেকে নামায়। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা লোকজন কামরুল ও তার ভাইয়ের হাত, পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বেধে হাইস গাড়ীতে তুলে তাদের নিকটে থাকা নগদ ৭২ হাজার টাকা ও বাদীর সিএনজি নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কামরুল ও তার ভাইকে হায়দ্রাবাদ ছাবের মার্কেট ভাঙ্গা ব্রীজের পাশে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার পাইকুড়া গ্রামের মো: আছব আলীর ছেলে মো: কামরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ৪ জনের বিরুদ্ধে জিএমপির পূবাইল থানায় একটি মামলা করেন। মামলা রুজু হওয়ার পর পূবাইল থানা পুলিশ গত ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। পূবাইল থানা পুলিশ মামলাটি তদন্তকালে ছিনতাইকৃত সিএনজি উদ্ধারসহ ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটনে বিলম্বিত হওয়ায় পুলিশ হোডকোয়ার্টার্স ঢাকা মামলাটি পিবিআই গাজীপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোবারক হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তকালে আসামী মো: সমরাটকে গত ২৪ জুলাই মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন সিপাহীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অপর আসামী আল আমিনকে গত ৩১ জুলাই রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, আসামিরা পেশাদার ছিনতাইকারী। তাদের নামে ইতিপূূর্বেও বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করলে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
