গুলির ঘটনার পর ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা বেড়েছে, মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা

অনলাইন ডেস্ক

পেনসিলভানিয়ার এক নির্বাচনী জনসভায় গতকাল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর গুলি চালানো হয়। এই ঘটনা তার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের বিষয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।

শনিবারের এই হামলায় গুলি তার কানে লাগে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলা হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল। রক্তাক্ত ট্রাম্প তখনও শূন্যে হাত উঁচু করেন এবং তার প্রচারণা শিবির জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট সুস্থ আছেন।

এই ঘটনার পরপরই ডলারের মূল্য বেড়েছে এবং বাজার আরও চাঙা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইস্টস্প্রিং ইনভেস্টমেন্টসের পোর্টফোলিও ম্যানেজার রং রেন গোহ মনে করেন, বাজারে এই বৃদ্ধির ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
১৯৮১ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের ওপর গুলি চালানোর পর এবার ট্রাম্পের ওপর হামলা হলো। এই হামলার কারণে আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্প বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারেন। ভেন্টেজ পয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নিক ফেরেস বলেন, ‘তাকে হত্যার চেষ্টার পর জরিপে ট্রাম্প ২২ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়েছেন। এই নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা ট্রাম্পের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। টেসলার প্রধান ইলন মাস্কের মতো ব্যবসায়ী নেতারাও ট্রাম্পের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, জো বাইডেনের প্রতি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান আরও জোরালো হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে এক নির্বাচনী বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর বাইডেনের সমর্থকরা তার প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।

রয়টার্স ও ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে অভিবাসন ও অর্থনীতি প্রধান ইস্যু। ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, অর্থনৈতিক ইস্যুতে ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে ভালো প্রার্থী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের অধীনে আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি এবং শিথিল জলবায়ু পরিবর্তন নীতিমালা আশা করা যায়। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, করপোরেট ও ব্যক্তিগত কর কমানোর কারণে ট্রাম্পের অধীনে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে।

ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে পুনরায় নিয়োগ দেবেন না। ট্রাম্পের নির্বাচনী সম্ভাবনার কারণে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ বাড়ছে।

নিক ফেরেস বলেন, ‘ট্রাম্প সবসময়ই বাজারপন্থী। তবে রাজস্ব নীতি শিথিল হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং সুদের হারও বাড়বে।’

শেয়ারের দামও বাড়ছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ শেয়ার সূচক নতুন রেকর্ড করেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ চলতি বছরে ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা লিখেছেন, গত ২০ বছরের পাঁচটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিইওদের আস্থা, ভোক্তা মনোভাব এবং ছোট ব্যবসার আশাবাদ রিপাবলিকান জয়ের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। কিছু কোম্পানির আয়ের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যদি ট্রাম্প নির্বাচনে জেতেন।

গুলির ঘটনার পরপরই হেজফান্ড ব্যবস্থাপক বিল অ্যাকম্যান এবং ইলন মাস্ক প্রকাশ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা ট্রাম্পকে ‘শক্ত’ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সূত্র : রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights