গৌরÑএ শহীদ সেনা ঈদগাহ মাঠ অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর জেলার ঐতিহাসিক গৌরÑএ শহীদ সেনা ঈদগাহ মাঠ দখলমুক্ত করার দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক এবং আর্মি ক্যাম্প বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান হিসেবে পরিচিত এই মাঠটি বতর্মানে অবৈধ দখলের হুমকির মুখে। গৌরÑএ শহীদ সেনা ঈদগাহ মাঠ দিনাজপুরের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক মিলনমেলার স্থানই নয়, বরং দিনাজপুর শহরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন বিকেলে এই মাঠে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। তবে, মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা এবং দোকানপাটের কারণে এর সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় কয়েকটি ক্লাব ও সংগঠন বছরের পর বছর ক্রিকেট প্রশিক্ষণের নামে মাঠের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে। এছাড়া, মাঠে অবৈধভাবে স্থায়ী ও অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে যা শহরবাসীর জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবৈধ দখলের কারণে শহরবাসী তাদের প্রাপ্য খেলার মাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশু, কিশোর এবং বয়স্করা খেলাধুলার সুযোগ হারাচ্ছে যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, মাঠে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকে বল দিয়ে আঘাতের শিকার হচ্ছেন এবং পার্কিং করা গাড়িও ভাঙচুরের শিকার হচ্ছে। পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠের আশপাশ দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আফজাল হোসেন বলেন, আমি এই বড় মাঠে আমার (কার গাড়িটি) রেখে বিশ্রাম করছিলাম পাশেই প্রশিক্ষণরত খেলোয়াড়েরা ইচ্ছে করেই আমার গাড়ির গ্লাসে তাদের খেলার শক্ত কাঠের বল দারা আঘাত করলে সাথেই সাথেই গাড়ির গ¬াসটি ভেঙে যায়, প্রতিবাদ করতে গেলে উলটো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলে, ‘‘গোটা গাড়ির গ্লাস ভেঙে দেব তোকে এখানে কে গাড়ি রাখতে বলেছে এইটা আমাদের মাঠ খেলার জায়গা।’’
আরও একজন ভুক্তভোগী মো. ছাবেদুল ইসলাম বলেন, অনুরূপ কাঠের বল মেরে আমারও পায়ে আঘাত করেছে তারা, খেলাধুলার জন্য দিনাজপুরে বড় স্টেডিয়াম রয়েছে, সেখানে তারা প্রশিক্ষণ নেক! তা না করে এই বড় মাঠটি দখল করে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রেখে ঐতিহাসিক এই মাঠটির সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে, মাঠটি মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সকলের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামকে অভিযোগ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights