গ্রুপসেরার লড়াইয়ে মুখোমুখি সুইজারল্যান্ড ও কানাডা

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-এর শেষ ম্যাচে বুধবার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা। দুই দলই ইতোমধ্যে নকআউট পর্বের খুব কাছে পৌঁছে গেছে। এবার তাদের লক্ষ্য গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা।

দুই ম্যাচ শেষে দুই দলেরই সংগ্রহ চার পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে রয়েছে কানাডা। দ্বিতীয় স্থানে আছে সুইজারল্যান্ড। ফলে এই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করে দিতে পারে গ্রুপসেরা দলকে।

সুইজারল্যান্ড প্রথম ম্যাচে কাতারের সঙ্গে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেলে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। সেই জয়ে দলটির আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে তারা।

দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি রক্ষণভাগ। গত পাঁচ ম্যাচে একটির বেশি গোল হজম করেনি সুইজারল্যান্ড। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে হওয়া দুটি গোলই এসেছে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে।

সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিনের দল ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শীর্ষে শেষ করার সুযোগ পেয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে কানাডার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই তাদের সামনে।

অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত দল কানাডা। দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো উত্তর ও মধ্য আমেরিকান দেশের এক ম্যাচে এত গোল করার নজির আগে ছিল না।

শুধু তাই নয়, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরের কোনো দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে পাঁচটির বেশি গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছে কানাডা।

কাতারের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েছে জেসি মার্শের দল। প্রতিপক্ষের বক্সে তাদের ৯৭ বার বল স্পর্শ করার রেকর্ডও বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা।

তবে কানাডার জন্য দুশ্চিন্তার খবরও আছে। দলের অন্যতম সেরা তারকা ও অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস এখনো উরুর পেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। তাই তাকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে। এছাড়া ইসমাইল কোনোয়ের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে পা ভেঙে যাওয়ার কারণে।

সুইজারল্যান্ডের শিবিরেও কিছু সতর্কতা রয়েছে। ডেনিস জাকারিয়া ও নিকো এলভেদি হলুদ কার্ডের ঝুঁকিতে আছেন। ফলে নকআউটের কথা মাথায় রেখে তাদের বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।

আক্রমণভাগে সুইজারল্যান্ডের ভরসা ব্রিল এম্বোলো, গ্রানিত জাকা ও ইয়োহান মানজাম্বি। বসনিয়ার বিপক্ষে মানজাম্বি দুটি গোল করেছিলেন। অন্যদিকে জাকা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন।

কানাডার আক্রমণে নজর থাকবে জোনাথন ডেভিড ও সাইল লারিনের দিকে। কাতারের বিপক্ষে ডেভিড তিন গোল করে আলোচনায় এসেছেন। আর লারিন টানা দুই বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কোনো দেশের কাছে কখনো হারেনি সুইজারল্যান্ড। তবে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় ২০০২ সালে ৩-১ গোলে জিতেছিল কানাডা।

সবকিছু মিলিয়ে এটি শুধু নকআউটের আগে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ নয়। গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এবং পরের পর্বের জন্য নিজেদের শক্তির জানান দেওয়ার সুযোগ—সবকিছুই জড়িয়ে আছে এই ম্যাচে। তাই ভ্যাঙ্কুভারে দুই দলের লড়াই জমে ওঠার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights