ঘরে স্ত্রীর মরদেহ রেখে স্বামী উধাও, পরিবারের দাবি হত্যা
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শৈলমারী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে সুমাইয়ার স্বামী মো. জসীম কাজী গা-ঢাকা দিয়েছেন।
নিহত সুমাইয়া শিমু শৈলমারী গ্রামের মো. মোস্তফা শেখের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার স্বামী জসীম কাজী পেশায় কাঠমিস্ত্রী। ২০১৮ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির শামিউল বারী (৬) নামে একটি ছেলে রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়াকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। শুক্রবার দুপুরের দিকে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর সুমাইয়া পাশের পাকুড়িয়া গ্রামে তার মেজ বোনের বাড়িতে ছেলেকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ির দিকে চলে আসেন। পরে তাকে কোথাও পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
সুমাইয়ার ছোট বোন মিম খাতুন অভিযোগ করে বলেন, জসীম কাঠমিস্ত্রীর কাজ করলেও নিয়মিত কাজ করতেন না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং জসীম বাড়ির কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন বলে তিনি দাবি করেন।
সুমাইয়ার আরেক বোন মোছা. সুরাইয়া বলেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। ঘটনার আগে সে ছেলেকে বোনের বাড়িতে রেখে এসেছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
নিহতের মা হাবিবা বেগমের অভিযোগ, সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে। বিকেল থেকে আমার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছিল না। জসীমের বাড়িতে তালা দেওয়া ছিল। পরে কীভাবে আমার মেয়ে ওই ঘরে গেল, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্ন। আমরা মনে করছি তাকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে জসীম কাজী বা তার পরিবারের লোকজন গা-ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এটিকে হত্যা বলে দাবি করছেন। তারা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগ, প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
