ঘরের মাঠে বদলে যেতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

দেশের বাইরে সাফল্য থাকলেও ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স মোটেও আশাব্যঞ্জক নয় বাংলাদেশের জন্য। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ চক্রে বিদেশের মাটিতে ৬ ম্যাচে ৩ জয় পেলেও, ঘরের মাঠে সমান সংখ্যক ম্যাচে জয় এসেছে মাত্র একটিতে।

নতুন চক্রে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এবার ঘরের মাঠে নামছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তুলে ধরলেন দলের উন্নতির জায়গাগুলো।

মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল বলেন,‘অধিনায়ক হিসেবে চাইব যে ঘরের মাঠে বেশির ভাগ ম্যাচগুলো যেন আমরা জিতি এই চক্রে। ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা চাই দলের কাছ থেকে, প্রথম ইনিংসে আমরা যেন ভালো ক্রিকেট খেলি সব সময়। এই চ্যালেঞ্জটা যদি আমরা ঠিকভাবে নিতে পারি, আমার মনে হয় এই চক্রটা আরও ভালো হবে।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘরের মাঠের পরিসংখ্যানও সেই দুর্বলতাই সামনে আনছে। গত চক্রে ঘরের মাঠে খেলা ৬ টেস্টের মধ্যে মাত্র একবার ৩০০ রানের বেশি করতে পেরেছিল দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১০ রানের ইনিংস ছাড়া বাকি কোনো ম্যাচেই ২০০ রানও ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ের উন্নতিকেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

শান্ত বলেন,‘প্রথম ইনিংসে চার শর বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো। একটা জিনিস বুঝতে হবে, একেকজনের খেলার ধরন একেক রকম। আমি চাই না যে কেউ তা পরিবর্তন করুক। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করে, সে সেভাবেই খেলুক। রান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ৮০ ওভারে যদি আমরা ৪০০ করতে পারি কোনো সমস্যা নেই, যদি কেউ ১২০ ওভার লাগায়, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।’

বর্তমান দলে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সংখ্যাও কম নয়। পাকিস্তান সিরিজে নতুন মুখ তানজিদ হাসান ও অমিত হাসান ছাড়া প্রায় সবাই খেলেছেন অন্তত ২০টি করে টেস্ট। তবে বেশির ভাগ ম্যাচই ছিল বিদেশের কঠিন কন্ডিশনে।

মিরপুর টেস্টে স্পোর্টিং উইকেট থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যেখানে ব্যাটার ও বোলার—দুই পক্ষই সমান সুবিধা পেতে পারে। সেই কন্ডিশনে ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করছেন নাজমুল।

তার ভাষায়,‘যে রকম কন্ডিশনই থাকুক, ওই অনুযায়ী কত ভালো ব্যাটিং করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে। কিন্তু সম্প্রতি যদি মিরপুরের উইকেট দেখেন, বিশেষত সাদা বলের ক্রিকেট, আমরা কয়েকটা সিরিজ খেললাম আগের থেকে অনেক ভালো উইকেটে। এখন আশা করাই যেতেই পারে যে ধীরে ধীরে এ জায়গাটাতে ব্যাটসম্যানরা আরেকটু ভালো ব্যাটিং করতে পারবে।’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে আগামীকাল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ১৬ মে সিলেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights