চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলবে দুই ট্রেন

অবশেষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে দুটি ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ এবং ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নামের দুটি ট্রেন সকাল-বিকাল চলাচল করবে। রেল দুটি দৈনিক যাত্রী পরিবহন করবে ২ হাজার ৯৭২ জন।

বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন চলাচল করে। তবে ট্রেন দুটি যাত্রাপথে শুধুমাত্র চট্টগ্রামে যাত্রী ওঠানামা করে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা যায়, নতুন দুটি ট্রেন আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলাচল শুরু করবে। এর মধ্যে সৈকত এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে কক্সবাজার পৌঁছাবে সকাল ১০টায়। অন্যদিকে প্রবাল এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। আর প্রবাল এক্সপ্রেস দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে কক্সবাজার পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে। আর সৈকত এক্সপ্রেস সন্ধ্যা ৭টায় কক্সবাজার স্টেশন থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। সপ্তাহের প্রতি সোমবার দুটি ট্রেনই বন্ধ থাকবে। দুই ট্রেনের সব যাত্রাতেই আছে ১৬টি কোচ, প্রতিটি কোচে আসন সংখ্যা ৭৪৩। ট্রেন দুটি মধ্যে সৈকত এক্সপ্রেস বিরতি দেবে ৮টি স্টেশনে। এগুলো হলো- ষোলশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলহাজারা ও রামু। আর প্রবাল এক্সপ্রেস থামবে ১০টি স্টেশনে। স্টেশনগুলো হল- ষোলশহর, গুমদন্ডী, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলহাজারা, ইসলামাবাদ ও রামু।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল পথে দুটি ট্রেন চলাচলের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি। তবে রেলওয়েতে যেহেতু জনবল ও ইঞ্জিন সংকট রয়েছে। তাই আমরা জোড়াতালি দিয়ে রেল দুটি পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ এই রুটে যাত্রীর চাহিদা বেশি।

জানা যায়, রেলওয়ের ‘চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রমের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রেলপথ নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ আছে আগামী জুন মাস পর্যন্ত। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ। তবে নির্মাণ কাজ শেষ না হলেও ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন রেলপথে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন চলাচল শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights