চট্টগ্রামে দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলি, ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে নগরজুড়ে।

গত রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের হামজারবাগ এলাকার ব্যস্ত সড়কের পাশে নির্মাণাধীন ভবনে। প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

পুলিশ জানায়, ভবন মালিক মিজান ও জসিমের কাছে বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর নামে প্রায় ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয় দেখাতে এভাবে গুলি চালানো হয়।

ঘটনার পর থেকে হামজারবাগ এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, একই এলাকার আমির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম নামের আরও দুই ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী মিজান ও জসিম ভয়ে মুখ খুলছেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ভাইরাল হওয়া প্রায় দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, হামজারবাগ এলাকায় মো. মিজান ও জসিমের মালিকানাধীন একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় তিন যুবক সেখানে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা ভবনের ভেতরে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে অস্ত্র হাতে নিয়েই ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায় সন্ত্রাসীদের।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ভয়ে এখনো মামলা করেননি। তবে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছে। ভুক্তভোগীদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা এখনো থানায় আসেননি।

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগকালে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনিসহ আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। এ ঘটনায় বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পার হলেও মূল শ্যুটারদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। বড় সাজ্জাদের অনুসারী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা থেমে নেই। বাহিনীর অন্তত অর্ধশত সদস্য খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights