চট্টগ্রামে ভাড়া বাড়ানোর আগেই নৈরাজ্য, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ইমরান এমি, চট্টগ্রাম

সরকারিভাবে গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আগেই চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ভাড়া নৈরাজ্য। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে নগরীর বিভিন্ন রুটে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে চাকরিজীবীরা। সামনে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে বিশেষ কোনো অভিযান শুরু হয়নি। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক বলেন, এ ধরনের বিষয় তদারকি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কেউ অভিযোগ করলে তা বিআরটিএকে জানানো হয় এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) কে এম মাহবুব কবির জানান, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাড়তি ভাড়ার বিরুদ্ধে আলাদা কোনো নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সরকারিভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত আগের ভাড়াই বহাল থাকবে।

দূরপাল্লার পরিবহনে ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও নগরীর অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। ডিজেলচালিত মাহিন্দ্রা ও টেম্পোতে ভাড়া ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বহদ্দারহাট–নতুন ব্রিজ এবং বহদ্দারহাট–ওয়াসা রুটে ভাড়া ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা নেওয়া হচ্ছে। লোকাল বাসে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া মুরাদপুর থেকে ফটিকছড়ির বিবিরহাট রুটে ভাড়া ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, চালকরা কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়ার হিসাব না দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ করছেন।

গ্যাস সংকট না থাকলেও সিএনজি অটোরিকশায়ও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনেক যানবাহন সড়কে না নামায় সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের ঘাটতি। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর সেই সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন চালকরা।

নগরীর জিইসি, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ ও একে খান মোড়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনকর্মীদের একাধিক বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে যাত্রীদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত কার্যকর অভিযান ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এই নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights