চট্টগ্রামের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

ইমরান এমি, চট্টগ্রাম
মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার আন্দোলনের ৭১ বছর পরও ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ শহীদ মিনার নেই চট্টগ্রামের বেশির ভাগই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাজের তাজা রক্তে অর্জিত হয়েছে বাংলা ভাষা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এ ভাষাকে পৃথীবিজুড়ে শহীদ মিনার স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্বের নানা ভাষাভাষীরাও। কিন্তু সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন চট্টগ্রামের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। রয়েছে চসিকের স্কুল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও।

যদিও সরকারিভাবে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলো পালন করার নির্দেশনা রয়েছে। আর এসব দিবসে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা থাকলেও শহীদ মিনার না থাকায় সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অনেক স্কুলে অস্থায়ী শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষার্থীরা। ২০০৯ সালে এক আদেশ জারির মধ্য দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক করে সরকার। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বন্দরনগরীর অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। চট্টগ্রামের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসও জানে না তাদের কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ আছে বা নেই তার সঠিক সংখ্যা।
ভাষা সৈনিক আবদুস সালাম মাস্টারের পুত্র সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু বলেন, জাতি হিসেবে আমরা সত্যিই দুর্ভাগা যে ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পূর্ণ হলেও এখনো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশই হলো শহীদ মিনার। এখান থেকেই একজন শিক্ষার্থী দেশ, মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা সম্পর্কে জানবেন। দেশ তথা ভাষার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা ছাড়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কখনও মূলধারায় আসতে পারে না। পাশাপাশি ভাষা সৈনিক ও ভাষা শহীদদের জীবনী তাদের বীরত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানাবো।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা ও নগরের ৬টি থানা মিলে ২২শ’ ৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে নগরের ৬ থানার ১শ’ ৮৩ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। কোতোয়ালী থানা এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩০টি। ৩০টি স্কুলের মধ্যে মাত্র ২টি স্কুল ছাড়া ২৮টি স্কুলে শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। অপরদিকে জেলার ১৪ উপজেলার মধ্যে শহীদ মিনার নেই ১৫শ’ ৫২টি স্কুলে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত ৪৮ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কয়টি স্কুলে শহীদ মিনার আছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর নাহারের কাছে। তিনি বলেন, আসলে কয়টি স্কুলে শহীদ মিনার আছে তা আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছু স্কুলে আমরা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি। আবার অনেক স্কুলে নির্মাণাধীন শহীদ মিনারও দেখেছি।

চট্টগ্রামের মাধ্যমিক পর্যায়ে কয়টি স্কুলে শহীদ মিনার আছে তা জানাতে পারেননি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদুল আলম হোসাইনী। তবে শিক্ষা প্রকৌশলের তথ্যমতে মাত্র ২১টি স্কুলে শহীদ মিনার আছে। তার মধ্যে মীরসরাইয়ের পাঞ্চমান নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সরকারি মহসিন কলেজ, সরকারি মহসিন স্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়, পাথরঘাটা মহিলা কলেজ, জেএমসেন উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা পলিটেকনিক, সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি কমার্স কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, পতিঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়, পটিয়া আবদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় ও চরখাগরিয়া খাদেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়।

এছাড়াও শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও হালিশহর হাউজিং স্টেট উচ্চ বিদ্যালয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights