চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আটক ২
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। প্রতারণকদের কাছ থেকে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে নেওয়া ৫৩টি সিভি, ১৩টি ভুয়া নিয়োগপত্র, ৭টি ব্যাংক চেক, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৯টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ভুয়া আইডি ও ভিজিটিং কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের ৫টি চেক বই, ৩টি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়।
শনিবার সকালে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি.এম আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলার উত্তর ভবানিপুর গ্রামের তাহের মন্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৬) ও নওগাঁর পোরশা থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আকিমুদ্দিনের ছেলে আবু তাহের ওরফে ফয়সাল (৪২)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার রাজবাড়ীর মোগল রেস্টুরেন্ট থেকে শফিকুলকে এবং মাঝ রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে আটক করা হয়।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি.এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার ভিডিপি, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিতে দীর্ঘদিন প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। সম্প্রতি রাজবাড়ীর সাখাওয়াত নামে এক ব্যক্তির ভাইকে রাজবাড়ীর পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে ১৪ লাখ টাকা দাবি করেন শফিকুল ইসলাম। সাখাওয়াতের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে রাজবাড়ী গোয়েন্দা পুলিশকে অবহিত করেন তিনি। পরে সাখাওয়াতকে দিয়ে টাকা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে ফাঁদ পাতে পুলিশ। সেই ফাঁদে আটকে পড়ে প্রতারক শফিকুল।
শফিকুলের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা থেকে তার সহযোগী ফয়সালকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৫৩টি সিভি, ১৩টি ভুয়া নিয়োগপত্র, ৭টি ব্যাংক চেক, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৯টি জন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ভুয়া আইডি ও ভিজিটিং কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের ৫টি চেক বই, ৩টি এটিএম কার্ড জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ বাদী হয়ে আটকদের নামে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের আটক করতে জিজ্ঞসাবাদ করা হবে বলে জানান পুলিশ।
আটক শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক আগে এসব কাজ করতেন। অনেকের টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন।
