চাকরির আশা ছেড়ে কৃষিতেই বাজিমাত কলাপাড়ার তরুণ সৌরভের

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সাগরপাড়ের পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের তরুণ সৌরভ কুমার বিশ্বাস। স্বপ্ন ছিল চাকরি করার। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় কৃষিকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তিনি। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রাগন ফল চাষ ও মুরগির খামার গড়ে তুলে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বিশেষ করে কৃত্রিম আলোকসজ্জা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারা বছর ড্রাগন ফল উৎপাদন করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন সৌরভ। মৌসুমের বাইরে বাজারে ড্রাগনের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাড়তি লাভও করছেন। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার ডিমপাড়া মুরগি নিয়ে নিজ বাড়িতে আধুনিক জৈব-নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করে একটি খামার গড়ে তুলেছেন। এ খামার থেকে বছরে ১০ লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিজের উদ্যম, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সৌরভ শুধু পরিবারের স্বচ্ছলতাই নিশ্চিত করেননি, তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এক শিক্ষকের কাছ থেকে মাত্র ১২টি ড্রাগনের কাটিং সংগ্রহ করেন সৌরভ। বাড়ির পাশে পরীক্ষামূলকভাবে সেগুলো রোপণ করার পর তেমন কোনো পরিচর্যা ছাড়াই গাছগুলো বেড়ে ওঠে এবং ফল দিতে শুরু করে। এতে তার আগ্রহ বাড়ে।

২০২২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর পুলিশে চাকরির চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় ২০২৩ সালে বাবা স্বপন কুমার বিশ্বাসের পরামর্শে বড় পরিসরে ড্রাগন চাষ শুরু করেন।

বর্তমানে দুই বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা তার বাগানে ইলোরা, পালোরা, রেড ভেলভেট, বোল্ডার ও থাই রেডসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় দুই হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। কৃত্রিম আলোকসজ্জা পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে সারা বছরই ফল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এসব ফল বিক্রি করে বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

সৌরভ বলেন, এখন আর চাকরি করার ইচ্ছে নেই। প্রযুক্তিনির্ভর ও সঠিকভাবে চাষাবাদ করলে কৃষিতেও সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই তরুণরা বেকার না থেকে কৃষিতে এগিয়ে আসুক।

বাগান দেখতে আসা ইমরান নামের এক যুবক বলেন, এখানে এসে জানতে পারলাম, সারা বছরই ড্রাগন ফল উৎপাদন করা যায়। তাই ছোট পরিসরে হলেও এমন একটি বাগান করার ইচ্ছে আছে।

আরেক দর্শনার্থী সাঈদুর রহমান বলেন, লতাচাপলী ইউনিয়নের এই বাগানটি যেন এক স্বপ্নরাজ্য। ড্রাগন উচ্চমূল্যের ফল। পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে ভালো লাভ করা সম্ভব। সৌরভ দেখিয়ে দিয়েছে, লেখাপড়া করে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিতেও সফল হওয়া যায়।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, শুরু থেকেই কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সৌরভকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার বাগানটি একটি আধুনিক মডেল। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ড্রাগন ফলে। তবে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে তিনি সারা বছর উৎপাদন করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে আরও লাভজনক করে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সৌরভের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights