চাপের মুখে জয় পাওয়াটা আর্জেন্টিনার রক্তে মিশে গেছে

অনলাইন ডেস্ক

আলভারেজ–মার্তিনেজের গোলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস এক জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ৩-১ গোলের এই জয়ে মেসিরা জায়গা করে নিয়েছে শেষ চারে। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

এরপর ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের নেওয়া শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন হুলিয়ান আলভারেজ। এরপর বক্সের ভেতর থেকে ফিরতি বলে (১২০‍+১) মিনিটে গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ। তার গোলে স্কোরলাইন হয় ৩–১।

রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানের জয়টি আরও একবার প্রমাণ করেছে, কঠিন পরিস্থিতিতে খেলার ক্ষেত্রে দলটি এখন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় মেসিরা। চাপের মুখেও স্কালোনির শিষ্যরা সঠিক পথ খুঁজে নিয়েছে।

স্কালোনির মতে, বিশ্বাস না হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতি বা প্রতিকূলতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা এই আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমরা জানতাম আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে; এটি আমাদের রক্তে মিশে আছে, এটি আমাদের ডিএনএ-র অংশ। আর এই বিষয়টিই আমাদের মনে প্রশান্তি জোগায়।

টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। রাউন্ড অফ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুবার এগিয়ে থেকেও সেই লিড হাতছাড়া করেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় তুলে নেয় দলটি। এছাড়া মিশরের বিপক্ষে ৭৯তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে দলটি।

স্কালোনির মতে, কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা যেখানে ফ্রান্সকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে তারা শিরোপা জিতেছিল। এবারও খেলোয়াড়রা কঠিন মুহূর্তগুলো সামলে উঠতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, কাতারে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা ছিল না। আমি নিজেও তখন অনভিজ্ঞ ছিলাম। সেই ধরনের পরিস্থিতি সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে এখন আমরা অনেক বেশি অভিজ্ঞ। প্রতিপক্ষের আধিপত্যের মুখে পড়া বা গোল খেয়ে সমতা মেনে নেওয়ার অনুভূতি আমাদের জানা আছে। তাই আজ আমরা মাথা ঠান্ডা রাখতে পেরেছি। দল জানত কীভাবে শান্ত থাকতে হয় এবং অবশ্যই, আমরা কখনোই হাল ছাড়ি না।

সুইজারল্যান্ড ৬৭তম মিনিটে গোল করে সমতা ফেরানোর পর মনে হয়েছিল তারা হয়তো আর্জেন্টিনার জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন।

স্কালোনি বলেন, প্রতিপক্ষ বেশ কঠিন ছিল। বল দখলের লড়াইয়ে জেতা কিংবা টানা পাঁচ-ছয়টি পাস সফলভাবে দেওয়াএসবই আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারা শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল এবং মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ‘ওয়ান-অন-ওয়ান’ বা ব্যক্তিগত দ্বৈরথে আমাদের বেশ বেগ দিয়েছে। আমাদের বেশ ভুগতে হয়েছে। স্কালোনি মনে করেন যে দলের গভীরতা এবং সম্মিলিত বিশ্বাসই তাদের এই জয় এনে দিয়েছে।

স্কালোনির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে মেসিরা। বর্তমানে দলটিত প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে বলে জানান মেসিদের এই কোচ। তিনি বলেন, আমাদের বেঞ্চেও এমন খেলোয়াড় আছে যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটি খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়। শেষ পর্যন্ত, আমরা সবসময়ই সমাধানের পথ খুঁজে বের করি।এর পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়দেরই, কারণ তাদের এই প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে হয়েছিল।

আর্জেন্টিনা যদি আবারও শিরোপা জয় করে, তবে এই আসরে হয়তো তাদের নান্দনিক বা সাবলীল ফুটবলের চেয়ে বরং সেই অদম্য মানসিকতা ও লড়াই করার ক্ষমতার জন্যই বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যা তাদের এতদূর নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights