চার দশকের সংঘাতের অবসান, অস্ত্র ধ্বংস করছে পিকেকে

অনলাইন ডেস্ক

উত্তর ইরাকের এক পাহাড়ি গুহামুখে প্রতীকী এক আয়োজনে অস্ত্র পুড়িয়ে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র আন্দোলনের অবসান ঘটিয়েছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)।

শুক্রবার (১১ জুলাই) কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকে’র ৩০ যোদ্ধা ইরাকের উত্তরাঞ্চলে একটি গুহার মুখে তাদের অস্ত্র নামিয়ে রেখে সেগুলো জ্বালিয়ে দেয়। প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তুরস্কবিরোধী বিদ্রোহের অবসানের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের সুলাইমানিয়া নগরীর ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জাসানা গুহায় হয় এই আনুষ্ঠানিকতা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ যোদ্ধারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে বিশাল একটি ধূসর কড়াইয়ে একে-৪৭ রাইফেল, কার্তুজের বেল্ট এবং অন্যান্য বন্দুক ঢালছে। তারপর সেগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুর্দি, ইরাকি ও তুর্কি কর্মকর্তারা। আগুনে জ্বলে ওঠা কালো বন্দুকগুলোর দৃশ্য যেন রক্তাক্ত ইতিহাসের এক সমাপ্তি টানার বার্তা দিলো।

১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসা পিকেকে, মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সংগঠন বিলুপ্ত, নিরস্ত্রীকরণ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এই উদ্যোগের পেছনে অন্যতম প্রেরণা ছিল দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের প্রকাশ্য আহ্বান।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমাদের দেশের নিরাপত্তা, জাতির শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের পথে এই উদ্যোগ সফল হোক—আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।”

ডোকান শহরের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিকেকের শীর্ষ নেত্রী বেসে হোজাতসহ চারজন কমান্ডার। হোজাত তুর্কি ভাষায় সংগঠনের পক্ষ থেকে অস্ত্র পরিত্যাগের ঘোষণা পাঠ করেন। এরপর আরেকজন কমান্ডার একই বিবৃতি পাঠ করেন কুর্দি ভাষায়।

অনুষ্ঠানস্থলটি ঘিরে রেখেছিল ইরাকি কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী। উপর দিয়ে চক্কর দিচ্ছিলো হেলিকপ্টার। উপস্থিত ছিলেন তুর্কি ও ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা, ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রতিনিধি এবং তুরস্কের প্রো-কুর্দিশ ডিইএম পার্টির শীর্ষ নেতারা, যারা এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্কে চার দশক ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ৪০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থনীতি ও সমাজে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছিল।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights