চীনের মরুভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের প্রতিকৃতি কেন?

অনলাইন ডেস্ক

চীনের সিনজিয়াং প্রদেশের তাকলামাকান মরুভূমিতে অবস্থিত রুইচিয়াং টেস্ট রেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্লি বার্ক শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের একটি হুবহু প্রতিকৃতি শনাক্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই বিশাল প্রতিকৃতিটি নির্মাণ করেছে, যা মূলত মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে নিশানা করার অনুশীলনের অংশ বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের বরাতে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এই স্থাপনাটির কাজ শুরু হয়। নতুন পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, যুদ্ধজাহাজটির ডেক, ব্রিজ এবং প্রধান কামানের অবস্থানের মতো খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আসল যুদ্ধজাহাজের আদলে তৈরি করা হয়েছে। এই মরুভূমি অঞ্চলে এর আগেও মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং অন্যান্য যুদ্ধবিমানের অনুরূপ লক্ষ্যবস্তু তৈরির নজির রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন তাদের উন্নত অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বা জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নিখুঁত লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করতে এবং ইমেজ-রেকগনিশন প্রযুক্তি উন্নত করার জন্য এই ধরনের পরীক্ষা চালাচ্ছে।

চীনের সামরিক বাহিনী গত কয়েক বছরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর মোকাবেলায় তাদের কৌশলগত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। তারা এমন সব শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা সরাসরি মার্কিন রণতরী বা ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম। এই তালিকায় রয়েছে ওয়াইজে সিরিজের সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল এবং ডিএফ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। বিশেষ করে ডিএফ-২১ডি এবং ডিএফ-২৬ এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘ক্যারিয়ার কিলার’ বা রণতরী ধ্বংসকারী হিসেবে পরিচিত, যা হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চীন হাইপারসনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত করেছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হতে পারে।

এই স্থাপনাটির চারপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, চীন ইতিমধ্যে এই প্রতিকৃতিগুলোর ওপর সরাসরি হামলার মহড়া চালাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব খর্ব করাই বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য। তাই নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও বিধ্বংসী করে তোলার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করার কৌশল হিসেবেই চীন এই ধরনের সামরিক প্রস্তুতির পথে হাঁটছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: ইউরোএশিয়ান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights