জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান ঠেকাতে রাস্তায় ট্রাক, ভাঙা হলো কালভার্ট
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বড় পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। তবে অভিযানে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের। অভিযান ঠেকাতে কোথাও রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে বড় ট্রাক। কোথাও আবার ভেঙে ফেলা হয়েছে কালভার্ট। নালার স্ল্যাবও তুলে ফেলা হয়েছে একটি স্থানে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়েছেন জঙ্গল সলিমপুরে থাকা সন্ত্রাসীদের একটি অংশ। তাই অভিযানের আগে রবিবার রাতেই এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন সন্ত্রাসীরা।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুরেরই অংশ। ছিন্নমূলের পরেই আলীনগর। ছিন্নমূল যাওয়ার পর আলীনগর ঢোকার আগে রাস্তায় একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। যত বাহিনী আছে, তারা এটি সরিয়ে সামনে এগোয়। কিছু দূর পরে, সম্ভবত রাতের আঁধারে, একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে কালভার্টের ওই অংশ ইট-বালি দিয়ে ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করেছে।
অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান এ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবিব পলাশ বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এখন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও র্যাবের আলাদা ক্যাম্প বসানো হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান এখনও চলমান।
উল্লেখ্য-জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আস্তানা’। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।
পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজন জানিয়েছে, এলাকাটিতে দু’টি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন।
ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন।
