জঙ্গলে মিলল ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, নাড়িভুড়ি; উধাও মাংস
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর জঙ্গলের ভেতর থেকে অন্তত ১০টি ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, নাড়িভুড়ি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, নির্জন ওই স্থানে ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে কোনো একটি চক্র।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার কর্ণপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের বরমী ও গোসিংগা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মুদিপাড়া এলাকায় এসব দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ঘাস কাটতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রথমে বিষয়টি দেখতে পান। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কর্ণপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়ক থেকে একটি পায়ে হাঁটা পথ জঙ্গলের ভেতরে চলে গেছে। জঙ্গলের ভেতর ঘোড়ার মাথা, চামড়া, হাড় ও নাড়িভুড়ি পড়ে থাকতে দেখেন এক ব্যক্তি। পরে তাঁর কাছ থেকে খবর শুনে তিনি দেখতে এসেছেন। ওই পথের দুই পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ঘোড়ার বিভিন্ন অঙ্গ পড়ে ছিল। দেখে মনে হয়েছে, সেখানে ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য সুমন প্রধান বলেন, গত রাতের যেকোন সময় ১০ থেকে ১২টি ঘোড়া জবাই করে মাংসা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সকালে ওই এলাকার কৃষক ঘটনাস্থলে ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, নাড়িভুড়ি ও হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখে আমাকে জানায়। পরে বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফ হোসেন বলেন, আশপাশে দুই কিলোমিটার কোনো বাড়িঘর নেই। ঘটনাস্থল থেকে ১২টি ঘোড়ার মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি সেখানে ১২টা ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে দেহের বিভিন্ন অংশ ফেলে রেখে গিয়েছে দুষ্কৃতী চক্র। ঘোড়ার মাংস কারা নিল, কোথায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে, ক্রেতা কারা। আমরা তাদের খোঁজ করতে ইতিমধ্যে কার্যক্রম চলমান রেখেছি। দেহাবশেষ গুলো মাটিচাপা দেয়া হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
