জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আগের নির্বাহী আদেশ বাতিল হওয়ার পর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে আদেশে সই করার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তাই আমরা নতুন করে কিছু সমন্বয় করছি।’
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, নতুন আদেশের একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে।
অন্য আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি সরকারের পক্ষে লবিং করা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস এখনও নির্বাহী আদেশ দুটির পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ করেনি। মিলার বলেন, ‘বহু বছর ধরেই মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসছে।
অনেকেই পর্যটকের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তারা বলেন ডিজনিল্যান্ড বা কোনো জাতীয় উদ্যান দেখতে এসেছেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।’
তার দাবি, এভাবে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক সন্তানের মাধ্যমে পরিবার পরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, এমনকি ভবিষ্যতে ভোটাধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা ভোগের সুযোগ পায়।
এর আগে, ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দিয়ে সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব লাভকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতাধীন সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।
দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিরোধিতা করে আসছেন। তার দাবি, ১৪তম সংশোধনী মূলত গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথা থেকে মুক্ত হওয়া মানুষের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্যই প্রণীত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এটি গৃহযুদ্ধের ঠিক পরপরই করা হয়েছিল। এটি ছিল দাসদের সন্তানদের জন্য।’
বিশ্লেষকদের ধারণা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক আবারও তীব্র হতে পারে। কারণ, এর আগে একইধরনের আদেশের বিরুদ্ধে সারা আমেরিকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরির পাশাপাশি আইনি লড়াইয়েও নেমেছিল মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলো। একইসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষেরা।
