জাহাজভাঙা শিল্পে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে: জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা ইয়ার্ডগুলোতে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের প্রাঙ্গণে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক বলেন, জাহাজ কাটার আগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ কাটার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। জাহাজভাঙা শিল্পকে ‘শূন্য প্রাণহানি’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাহাজের ভেতরে কীভাবে গ্যাস জমেছিল এবং কাটার আগে কেন তা অপসারণ করা হয়নি, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিএসবিআরএ সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী বলেন, নিহত শ্রমিকদের প্রাণের ক্ষতি কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তাঁদের স্বজনেরা যাতে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারেন, সে জন্য ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও ইয়ার্ড মালিকপক্ষ এসব পরিবারের খোঁজখবর রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে বিএসবিআরএ ও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলোকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। শিল্পনীতির বিধান অনুযায়ী দুই লাখ টাকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। রোববার বাকি সাত লাখ টাকা করে চেক নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ডে বসবাসকারী পাঁচ নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এই অর্থ পাবেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি, ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights