জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গুলিবিদ্ধ তাজেল
# রফিকবাহিনীর প্রধানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধেথানায় অভিযোগ
# সত্যতাপেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: রূপগঞ্জথানার ওসি
নিজস্বপ্রতিবেদক
পুর্ব শত্রুতার জের ধরে রূপগঞ্জ উপজেলারনাওড়া গ্রামে রফিক বাহিনীর হামলায়গুলিবিদ্ধ তাজেল ইসলাম মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকেকায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভয়ংকর রফিক বাহিনীর তাণ্ডবেচোখে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এঘটনায় আহত ১৩ জনের৫ জন এখনও বিভিন্নবেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলেও মঙ্গলবারসন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখারসময় পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে মামলানেওয়া হয়নি। ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণকরা হবে বলে জানিয়েছেনরূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র সাহা।অভিযোগ তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়াহয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানাযায়, সোমবার দুপুরে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিকও তার ভাই মিজানুররহমান ওরফে কুত্তা মিজানেরউপস্থিতিতে ৫০ থেকে ৬০জন সন্ত্রাসী নাওড়া গ্রামের নিরীহ বাসিন্দাদের ওপর বর্বর হামলাচালায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ৮ জনসহ আহত হয়১৩ জন। এর মধ্যেপাঁচজন বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে তাদেরপরিবার। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সন্ত্রাসীদের ভয়েএলাকাছাড়া হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রজানায়, তাজেল ইসলাম নাওড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। সোমবার দুপুরে সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলাশুরু করে। আশপাশের লোকজনতাকে রক্ষা করতে আসলে সন্ত্রাসীরাব্যাপকভাবে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধহয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তাজেল। এসময়রফিক বাহিনীর সদস্য আব্দুর রহমান তাকে চাইনিজ কুড়ালদিয়ে আঘাত করে। এতেতার মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্থ হয়, নাকের ছিদ্রকেটে যায়। এরপর স্থানীয়রাতাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেনিলে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজেরস্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতেঢাকা মেডিকেল থেকে উন্নত চিকিৎসারজন্য বেসরকারি হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।
প্রতিবেদনলেখা পর্যন্ত তাজেলের শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নিবলে জানিয়েছেন তার বাবা মোক্তারহোসেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মোক্তারহোসেন বলেন, তার অবস্থা খুবইগুরুতর। হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত মুহাম্মদজাগু প্রধান, আলাদি প্রধান, মোহাম্মদ আলআমিন, জয়নাল প্রধানও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
হামলারশিকার লিপি প্রধান, মাসুদাপ্রধান, জেসমিন প্রধানসহ বেশ কয়েকজন নারীচিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু নতুন করে হামলারআশঙ্কায় আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেনবলে জানা গেছে।
সরেজমিনগতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাওড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গ্রামটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রামেরঅধিকাংশ বাড়িতে পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে।
গ্রামেরবাসিন্দা নুরজাহান বেগম জানান, রফিকবাহিনীর ফের সন্ত্রাসী হামলারভয়ে অধিকাংশ বাড়ির পুরুষরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থানকরছেন।
স্থানীয়আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেবভূইয়া জানান, গত সোমবার রফিকও মিজান বাহিনীর সন্ত্রাসীরা নাওড়া গ্রামের মানুষের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করারপর ৮ জনকে গুলিবিদ্ধকরে শিশুসহ ১৩ জনকে আহতকরে।
প্রবীনএ নেতা বলেন, সারাজীবনদল করে আমাদের দলক্ষমতায় থাকাকালীন দলের হাইব্রিড ভূমিদস্যুরফিক বাহিনী আমাদের গুলি করছে, বাড়িঘরছাড়া করছে। স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কারনে সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হচ্ছেনা।
এদিকে, হামলার ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান নীরব বাদি হয়েরূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এতেহামলাকারীদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইমিজানসহ ৩০ জনের নামউল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০থেকে ৪০ জনকে অভিযুক্তকরা হয়।
অভিযোগেমোস্তাফিজুর রহমান নিরব বলেন, আসামিরাঅত্যন্ত উশৃংখল, দাঙ্গাবাজ, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতিরলোক। তারা দীর্ঘদিন যাবতআমাদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনেরবিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক মনোভাব পোষণ করে আসছে।আমাদের বাড়িঘর ও জমিজমা দখলকরতে রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মিজানুর রহমান ও কালা জসুরনেতৃত্বে ৩০-৪০ জনসন্ত্রাসী নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান, দা, রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল,সুইচ গিয়ার, চাকু, লোহার রড, এস এসপাইপ, হাতুড়ি নিয়ে আমাদের উপরহামলা চালায়। এই ঘটনায় ১৩জন আহত হয়। এরমধ্যে ৮ জন গুলিবিদ্ধহয়। বর্তমানে ৫ জন গুরুতরঅবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসানিচ্ছে।
মামলারবাদী মোস্তাফিজুর রহমান নিরব জানান, সোমবারদুপুরে ও বিকেলে দুইদফায় হামলায় আমাদের পরিবার ও আশপাশের ৬থেকে ৭ বাড়ির মোট১৩ জন গুরুতর আহতহয়। সন্ত্রাসীরা এখনো হামলার পরিকল্পনাকরছে। আমরা ভীত সন্ত্রস্তহয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।এ ঘটনায় এখন
