জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আলোচনা সভার শুরুতে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই আন্দোলনে সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের এ ত্যাগ আমাদের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং আমাদের মুক্তি দিয়েছে। আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি।

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত একদিনে ঘটে না; দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল ২০০৯ সাল থেকে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তৎকালীন সরকার ১৫ বছর ধরে ব্যাপক অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচার চালিয়েছে। তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত হিংস্র।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৎকালীন সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে, তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং কারাবন্দি করে হয়রানি করেছে। সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারী সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়েই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ বিপ্লবে অংশ নিতে পাঠিয়েছেন। আবু সাঈদের মতো তরুণ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বলেছে ‘গুলি কর’। এটিই ছিল বীরত্বের এক অনন্য নিদর্শন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার এবং আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা দেবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহসানুল আজিজ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান, কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights