জেট ফুয়েলের দাম বাড়াচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে জ্বালানির তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জেট ফুয়েলের ওপর সারচার্জ ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

একইসঙ্গে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ টিকিটের মূল্য ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য সংস্থাগুলোকে অনুমতি দেওয়া হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দেশটির অর্থমন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্তার্তো সাংবাদিকদের বলেছেন, জেট ফুয়েল সারচার্জ ১০ থেকে ৩৮ শতাংশ এবং টিকিটের মূল দাম ৯ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়া এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কমাতে তারাও টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে এবং রুট কমাচ্ছে।

জাকার্তায় এয়ারলাঙ্গা বলেছেন, যাত্রীদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিটের ওপর ১১ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বহন করবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পরিমাণ প্রতি মাসে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (প্রায় ৭৬ মিলিয়ন ডলার)। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে কিনা তার ওপর নির্ভর করে দুই মাস পর এই পদক্ষেপগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানোর পর থেকে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি বেড়েছে, যা একটি অঞ্চলব্যাপী সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হওয়ার কারণে বাড়ছে।

রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পার্টামিনার ওয়েবসাইট অনুসারে, জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম মার্চ মাস থেকে ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

তবে সরকার জোর দিয়ে বলেছে, তারা অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত পেট্রোল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভর্তুকি কমাবে না। এই ভর্তুকি গ্রাহকদের খরচের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বহন করে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির বার্ষিক বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করে।

জাকার্তা চলতি বছরে জ্বালানি ভর্তুকির হিসাবটি ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল এবং সরকার আইনত জিডিপির ৩.০ শতাংশের বেশি রাজস্ব ঘাটতি না রাখতে বাধ্য।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী পূর্বায়া যুধি সাদেওয়া বলেন, এখানে-সেখানে কিছু সাশ্রয়ের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে পারব যে ঘাটতি প্রায় ২.৯ শতাংশ থাকবে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বছরের শেষ পর্যন্ত ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে না।

এয়ারলাঙ্গা আরও ঘোষণা করেন যে, বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশের উপর আমদানি শুল্ক বাতিল করবে। জ্বালানি মজুদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাকার্তা গত মাসে জ্বালানি রেশনিং এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights