টাকা চাওয়ায় ফিলিং স্টেশন কর্মীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীতে তেলের টাকা চাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীকে গাড়িচাপায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম সুজন ও তাঁর সহযোগী কামালকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে করিম ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন সাহা (৩০) সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের খানখানাপুর গ্রামের পবিত্র সাহার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানান, ভোর সোয়া ৪টার দিকে একটি কালো রঙের পাজেরো জিপ ফিলিং স্টেশনে আসে। নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৩৪৭৬। গাড়ি থেকে আবুল হাশেম সুজন নেমে পাম্প কর্মচারী রিপন সাহাকে ৫ হাজার টাকার অকটেন ভরার নির্দেশ দেন। তেল নেওয়ার পুরো সময় তিনি রিপনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তেল নেওয়া শেষ হলে টাকা পরিশোধ না করেই গাড়িতে উঠে পড়েন। পরে চালককে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলেন। টাকা চাইতে রিপন গাড়ির পেছনে গেলে চালক গতি বাড়িয়ে দেন। এতে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই রিপন মারা যান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী করিম ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িটি প্রায় এক শ গজ দূরে গিয়ে রিপনকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে রিপনের লাশ পড়ে থাকতে দেখি।’ এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সুজনের ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার মেসার্স করিম ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেয়। এরপর সুজন নিজে একটি কাগজে কিছু লিখে সেটা পাম্প কর্মচারী রিপনকে দেখান। এর কিছুক্ষণ পর সুজন গাড়িতে উঠে পড়েন। পরে চালক গাড়ি স্টার্ট দিলে রিপন গাড়ির সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করেন। গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করলে একপর্যায়ে রিপন ওই গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। সুজন রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারীপুর গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে। তিনি ২০১৮ সালে জেলা যুবদলের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি তিনি একজন ঠিকাদার। এ বিষয়ে করিম গ্রুপের ম্যানেজার ইমরান হোসেন জীবন বলেন, ‘এটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কোম্পানির পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’ আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোহম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ‘তেলের টাকা না দিয়ে পালানোর সময় ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন গাড়িচাপায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত সুজন ও তার সহযোগী কামালকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সুজনের প্রাইভেট কারটি। সুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ তিনটি মামলা রয়েছে। একটি মারামারি মামলায় কয়েক দিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন।’ এদিকে রিপনের মৃত্যুর খবরে তার বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পবিত্র সাহা বলেন, ‘রিপনের জন্য আজই মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আমার সব শেষ হয়ে গেল! আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights