টানা আন্দোলনে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর

বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম

শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ডখ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেনাল কার্যক্রম। এতে জেটিতে জাহাজে পণ্য ওঠা-নামা এবং খালাসকৃত আমদানি পণ্য ডেলিভারি বন্ধ ছিল।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। এর আগের দুইদিনও ধর্মঘট পালিত হয়েছে।

এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আট ঘণ্টা কর্মবিরতির পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

আগামী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করবে তারা। দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম হোসেন খোকন।

কর্মবিরতি ছাড়াও বন্দরের দুটি প্রবেশপথে অবরোধের আলাদা কর্মসূচি দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ(স্কপ)। নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল বের করেন স্কপের নেতা-কর্মীরা।

দেশের সমুদ্রকেন্দ্রিক বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। ধর্মঘটে এই বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বিগ্ন আমদানি-রপ্তানিকারকরা।

বিজিএমইএ পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ’তৈরি পোশাক শিল্প বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে। উৎপাদনের দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। কারণ কাঁচামাল যদি সময়মতো আনতে না পারি তাহলে শ্রমিকরা বসে থাকবে। নির্বাচনসহ বেশ কিছুদিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর সঙ্গে বন্দরের সমস্যা যোগ হলে আমাদের ক্ষতি বাড়বে। আমরা চাই অতি সহসা বন্দর যেন সচল করে দেওয়া হয়’।

বন্দরের অচলাবস্থায় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ’ধর্মঘটের কারণে পণ্য যথাসময়ে ডেলিভারি নিতে পারছি না। ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। আমদানিকারক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যথাসময়ে পণ্য পাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রপ্তানিও করতে পারছে না। একদিন ডেলিভারি না হলে একেকটি কনটেইনারে ৮-১০ হাজার টাকা ডেমারেজ দিতে হয়। এছাড়া শিপিং এজেন্টরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন’।

বন্দরের এনসিটি নিয়ে চুক্তি প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল বন্দর শাখা ও তাদের সাবেক সিবিএ নেতারা। পরবর্তীতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights