টুখেলের ‘অ্যান্টি-মেসি প্ল্যান’ কাজে আসবে কি?

অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আটলান্টার এই মহারণকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। তবে পুরো ম্যাচজুড়ে ইংলিশ শিবিরের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। চলতি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে আটটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শুরুর আগে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ককে বোতলবন্দী করার উপায় খুঁজছে থ্রি লায়ন্সরা।

ইংল্যান্ড দলের প্রধান কোচ থমাস টুখেল সংবাদ সম্মেলনে রসিকতা করে জানান, ওল্ড-স্কুল স্টাইলে মেসিকে ম্যান-মার্কিং করার কথা তার মাথায় এসেছিল। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, মেসিকে আটকানো মোটেও সহজ নয়। ইংলিশ ভিডিও অ্যানালিস্ট দল মেসির খেলার ধরন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। টুখেল বলেন, মেসি কোন কোন জায়গায় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন তা সবার জানা। ম্যাচে তার মুভমেন্ট দ্রুত ধরা পড়ে এবং বল পায়ে পেলেই তিনি ফাঁকা জায়গা তৈরি করে নেন। টুখেল জানান, তারা মেসির খেলায় কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা কৌশল চিহ্নিত করেছেন। তবে একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সেই প্যাটার্ন বন্ধও করে দেওয়া হয়, তবে মেসি ও তার দল মুহূর্তের মধ্যে নতুন কৌশল তৈরি করে নেবে। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে খেলাটা সবসময়ই এক অনন্য চ্যালেঞ্জ।

মেসির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে জার্মান এই কোচ আরও বলেন, মেসি যেভাবে এই দলটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তা অবিশ্বাস্য। বিশ্বমঞ্চে তার এই অর্জনকে বর্ণনা করার মতো কোনো ভাষা তার জানা নেই। মাঠের খেলায় মেসি বল পাওয়ার সাথে সাথেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের বাকিদের মুভমেন্ট শুরু হয়ে যায় এবং মেসিকে বল সাপ্লাই দেওয়ার টেকনিক্যাল নিখুঁততাও বিশ্বমানের। ফলে পুরো ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডকে প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে। তবে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলে তারা এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানান টুখেল।

এদিকে সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার ও স্কাই স্পোর্টসের জনপ্রিয় ফুটবল বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘারও মেসিকে আটকানোর একটি পরোক্ষ উপায় বাতলে দিয়েছেন। তার মতে, প্রতিপক্ষের পায়ে যখন বল থাকে, তখন মেসি রক্ষণভাগে খুব একটা নিচে নেমে আসেন না। ফলে আর্জেন্টিনা কার্যত ৯ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় নিয়ে রক্ষণ সামলায়। ইংল্যান্ড এই সুযোগটি লুফে নিতে পারে। ক্যারাঘার পরামর্শ দেন, ইংল্যান্ডের লেফট-ব্যাক যেন পুরো ম্যাচজুড়ে মেসির পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে না থেকে আক্রমণে যোগ দেন। তবে মেসির সামর্থ্যকে খাটো করে দেখছেন না তিনিও। ক্যারাঘার স্পষ্ট করে বলেন, মেসি গত ২০ বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ স্তরে আছেন এবং তাকে থামানোর শতভাগ কার্যকর কোনো উপায় কেউ এখনো বের করতে পারেনি। তবুও ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের বিপক্ষে নামার আগে ইংল্যান্ডকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০৫টি ম্যাচ খেললেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এর আগে কখনো মাঠে নামা হয়নি লিওনেল মেসির। ২০০৫ সালে তার অভিষেকের পর এই প্রথম থ্রি লায়ন্সদের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। ঐতিহাসিক এই লড়াইয়ে জয়ী দলটি সরাসরি চলে যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে, আর তাই মাঠের কৌশলের এই দাবা খেলায় শেষ হাসি কে হাসে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights