ট্রমা কাটছে ফাঁদে আটকে পড়া সেই বাঘের

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া থেকে উদ্ধার বাঘটি স্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেছে। গতকাল সকালে বাঘটিকে খাওয়ানো হয়েছে গরুর কলিজা। ফাঁদে কয়েক দিন আটকে থাকায় এক ধরনের ট্রমার মধ্যে ছিল বাঘটি। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় তেমন নড়াচড়াও করছিল না। গত শনিবার বাঘটিকে উদ্ধার করে বনবিভাগ। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, উদ্ধার হওয়া স্ত্রী বাঘটি পূর্ণবয়স্ক। বনবিভাগের ধারণা, ৪-৫ দিন ধরে বাঘটি ফাঁদে আটকে ছিল। ফাঁদের কারণে তার সামনের বাম পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। শনিবার মোংলার শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভিতরে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে পড়া অবস্থা থেকে বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় বাঘটি খুলনায় আনা হয়। এই বন কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দিনে গরুর কলিজা দিলেও বাঘটি খায়নি। পরদিন কলিজা খেয়েছে। দূর থেকে পায়ের ক্ষত স্থানে ভায়োডিন জাতীয় জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ধীরে ধীরে ট্রমা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে বাঘটি। বাঘটিকে বর্তমানে খুলনা বয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুলকার নাইমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। বন কর্মকর্তারা বলছেন, বাঘটিকে বনে পুনরায় ছেড়ে দিতে গেলে তাকে পরিপূর্ণ সুস্থ হতে হবে। কারণ সেখানে বনের পরিবেশে তাকে শিকার ধরতে হবে। অন্য বাঘের সঙ্গে লড়াই করতে হতে পারে। এসব বিবেচনায় পরিপূর্ণ সুস্থ হলেই বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights