ট্রান্সজেন্ডার মতবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান
ঝুমা আক্তার
ট্রান্সজেন্ডার বর্তমান পৃথিবীতে বিরাজমান অন্যতম আলোচিত কুসংস্কার। যা সৃষ্টির স্বাভাবিক নিয়মকে ব্যাঘাত করছে।তবে ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে আলোচনার আগে জানতে হবে ট্রান্সজেন্ডার আসলে কি বা কারা?
অনেকে হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডারকে একত্রিত করে ফেলে। কিন্তু দুটো আলাদা বিষয়। হিজড়া হলো তৃতীয় লিঙ্গ, যারা জন্ম থেকেই কিছু শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মায় তাদেরকে হিজড়া বলে। আর ট্রান্সজেন্ডার হচ্ছে, আপনি সম্পূর্ণ পুরুষ হয়ে জন্মেছেন, কিন্তু মানসিকতা মেয়েদের মতো, আপনার সব কিছু ঠিকাছে শুধু নিজেকে মেয়ে ভাবতে ভালো লাগে তখন সার্জারীর মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে মেয়ে হয়ে গেলে সেটা ট্রান্সজেন্ডার।
এখন বলা যাক এই কুসংস্কৃতি কেন বিরাজ করছে?
পশ্চিমা কুচক্রী মহল তাদের সাম্রাজ্যেকে বিস্তার ও তাদের দাসত্ব্যের শৃঙ্খলে আমাদের আবদ্ধ করে রাখতে এই ট্রান্সজেন্ডারের মতো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
কেননা পুরুষ যদি পুরুষই থাকে। তার কর্মকাণ্ড পুরুষের আসল বৈশিষ্ট্য থাকে তাহলে তারা তাদের সাম্রাজ্যে গড়ে তুলতে পারবে না, তারা আমাদের সাথে অন্যায় করতে পারবে না, তারা আমাদের দাসত্ব্য আবদ্ধ করতে পারবে না।
তাই এই উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যেই পশ্চিমা কুচক্রী মহল পুরুষকে নারীতে রুপান্তর করার মতো জঘন্য পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
আর তাদের এই আন্দোলনকে সহজ করার জন্য আমাদের চোখের আড়ালে গড়ে ঔঠেছে ছদ্মবেশী নানা সংগঠন। LGBTQ movement তাদের আন্দোলনের অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশে এর বৈধতা দেওয়ার জন্য কুচক্রী মহল আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই উদ্দেশ্য আমাদের শিক্ষাক্রম থেকে শুরু করে রাষ্টীয় বিভিন্ন কার্জকর্মের মাধ্যমে বিষয়টি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই কুচক্রী মহলের কাছে মাথা নত করছে।সচেতন নাগরিকগণ এই বিষয়ে কথা বলতে গেলেই তাদের চাকরি নিয়ে নিচ্ছে। এমনকি মৃত্যুর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। তাই এখনই উত্তম সময় তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার।
আমরা মুসলিম, আমরা বাঙালি আমাদের সৎ জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক রয়েছে। ন্যায়-অন্যায় যাচাই করার ক্ষমতা রয়েছে
একজন নারী সে নারী একজন পুরুষ সে পুরুষ। সৃষ্টিকর্তা আমাদের আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। আমাদের জেন্ডার আনুযায়ী আচরণ করতে হয়।কিন্তু একজন নারী কখনো পুরুষ বা একজন পুরুষ কখনো নারীতে রুপান্তর হতে পারে না।এতে করে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।আর যখনই প্রকৃতির নিয়মকে অন্য সৃষ্টি কর্তৃক বদলাতে চায়, তখনই সৃষ্টি হয় অবর্ণনীয় সমস্যা। যা ইতিহাস সাক্ষী। যদি এই ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু চলমান থাকে অদূর ভবিষ্যতে আমদের বংশপরম্পরায় মারাত্মক বিপদ ঘনিয়ে আসবে।পৃথিবী স্বাভাবিক থাকবে না।তাই কুচক্রীদের স্বার্থপরতাকে রুখে দিতে আমাদের সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয় – স্বজনদের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবীর রচনা করতে হবে।
ধরুন, আমার বা আপনার ছেলে বা মেয়েটি ভিন্ন লিঙ্গে রুপান্তর হল তখন আমার বা আপনার পরিস্থিতি কী বা কেমন হবে? একটু কল্পনা করলেই তা আমরা বুঝতে পারি।তাই সৃষ্টির স্বাভাবিক নিয়মকে ব্যাঘাত না করে অন্যায়কারীদের রুখে দিয়ে আমাদের সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।তাদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করতে হবে।
