ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্রের মাথার দাম নির্ধারণ করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ১ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন ইউরো) পুরস্কারের ঘোষণা সম্বলিত একটি ভিডিও প্রচার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ৩। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের তৈরি এই ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘কোথায় এবং কীভাবে আমরা ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যা করব?’। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে সরাসরি প্রচারিত এই ফুটেজে ব্যারন ট্রাম্পের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয় এবং তার সিক্রেট সার্ভিস পাহারাদারদের বিভিন্ন গতিবিধি দেখানোর দাবি করা হয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কনিষ্ঠ পুত্রের সব ধরনের কর্মকাণ্ড তারা পুরোপুরি নজরদারিতে রাখছে।

তবে ভিডিওটিতে করা এই সব দাবি কতটা সত্য তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রচার করা তথ্যে আরও বলা হয়েছে, এক অজ্ঞাত তরুণী ব্যারন ট্রাম্পের উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তার একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে অংশ নেন এবং সেখান থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে ভিডিও নির্মাতাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এছাড়া সিক্রেট সার্ভিসের নজর এড়িয়ে ব্যারন এক্সবক্স গেমিং প্ল্যাটফর্মের ভয়েস ও টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রক্ষা করেন বলেও দাবি করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের সরাসরি হুমকি এবারই প্রথম নয়। এর আগে আইআরজিসি-সংক্রান্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যেখানে মেলানিয়া ট্রাম্পের নিরাপত্তা কাঠামোর ফাঁকফোকর ও তার যাতায়াতের বিবরণ তুলে ধরা হয়। একইভাবে মে মাসের শেষের দিকে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি ষড়যন্ত্র চক্রান্তের খবরও মার্কিন গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল। এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার সরাসরি হুমকি দিয়ে একাধিক সংবাদ ও তোরণ বিজ্ঞাপন তেহরানে প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হয়েছে। তেহরানের বিপ্লব চত্বরে ট্রাম্পের কফিনে থাকা ছবির পাশে ইংরেজিতে সরাসরি লেখা হয়েছিল ‌‌‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব।’

মধ্যপ্রাচ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পেছনে মূলত দুটি ঘটনা অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। প্রথমত, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসি-এর কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড। সেই ঘটনার পর থেকেই ইরান কঠোর প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা করে আসছে। দ্বিতীয়ত, চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরুতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু তেহরানের উত্তেজনাকে চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। ইরানি গণমাধ্যমের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও বিশ্লেষকরা ইসলামিক আইনি নীতি কিসাস (প্রতিশোধমূলক বিচার ব্যবস্থা)-র দোহাই দিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আলোচক মোহাম্মাদ-জাভেদ লারিজানি ও মহসেন গানবারিয়ান স্পষ্ট বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকারীকে শাস্তি না দিলে বা প্রতিশোধ না নিলে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা সম্ভব নয়।

এদিকে ওয়াশিংটনের তরফ থেকেও এই হুমকির কঠোর জবাব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন যে, তাঁর জীবনের ওপর কোনো আঘাত আনা হলে সমগ্র ইরানের অস্তিত্ব মুছে দেওয়া হবে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই ভিডিও ফুটেজ এবং সিকিউরিটি ব্রিচ সম্পর্কিত সমস্ত দাবি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights